কুইজ জেনারেটর

If you need pdf note please contact me over messenger.

তৃতীয় অধ্যায়: কোষ বিভাজন (class 10)

তৃতীয় অধ্যায়: কোষ বিভাজন

(Cell Division)


১. কোষ বিভাজনের ধারণা

কোষ বিভাজন কী?

যে প্রক্রিয়ায় একটি মাতৃকোষ (Mother cell) বিভক্ত হয়ে এক বা একাধিক নতুন কন্যা কোষ (Daughter cell) তৈরি করে তাকে কোষ বিভাজন বলে।

সহজ ভাষায়:

একটি কোষ → বিভাজন → নতুন কোষ সৃষ্টি

কোষ বিভাজনের মাধ্যমে:

  • জীবের বৃদ্ধি ঘটে

  • ক্ষতস্থান পূরণ হয়

  • নতুন কোষ তৈরি হয়

  • জীবের বংশবিস্তার সম্ভব হয়


২. কোষ বিভাজনের প্রয়োজনীয়তা

জীবদেহে কোষ বিভাজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

(ক) জীবের বৃদ্ধি

একটি শিশু জন্মের সময় ছোট থাকে। পরবর্তীতে তার দেহের আকার বৃদ্ধি পায়।

এর প্রধান কারণ:

  • নতুন নতুন কোষ তৈরি হওয়া

  • পুরোনো কোষের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া


(খ) ক্ষত নিরাময়

আমাদের শরীরে কোনো অংশ কেটে গেলে নতুন কোষ তৈরি হয়ে ক্ষতস্থান পূরণ করে।

উদাহরণ:

  • ত্বকের ক্ষত শুকানো


(গ) পুরোনো কোষের পরিবর্তন

দেহের অনেক কোষ নির্দিষ্ট সময় পর নষ্ট হয়ে যায়।

কোষ বিভাজনের মাধ্যমে:

  • পুরোনো কোষের পরিবর্তে নতুন কোষ তৈরি হয়।


(ঘ) জীবের প্রজনন

এককোষী জীবের ক্ষেত্রে কোষ বিভাজনই নতুন জীব সৃষ্টি করে।

উদাহরণ:

  • অ্যামিবা

  • ব্যাকটেরিয়া


৩. কোষ বিভাজনের প্রকারভেদ

কোষ বিভাজন প্রধানত দুই ধরনের:

১. মাইটোসিস (Mitosis)

২. মিয়োসিস (Meiosis)


৪. মাইটোসিস (Mitosis)

সংজ্ঞা:

যে কোষ বিভাজনে একটি মাতৃকোষ বিভক্ত হয়ে দুটি একই ধরনের অপত্য কোষ তৈরি করে এবং অপত্য কোষে ক্রোমোসোম সংখ্যা মাতৃকোষের সমান থাকে তাকে মাইটোসিস কোষ বিভাজন বলে।

একে সমীকরণিক বিভাজন (Equational division) বলা হয়।

কারণ:

  • মাতৃকোষে যত সংখ্যক ক্রোমোসোম থাকে

  • নতুন কোষেও একই সংখ্যক ক্রোমোসোম থাকে


৫. মাইটোসিস কোথায় ঘটে?

মাইটোসিস সাধারণত ঘটে:

উদ্ভিদে:

  • মূলের অগ্রভাগে

  • কাণ্ডের অগ্রভাগে

  • বৃদ্ধি অঞ্চল

প্রাণীতে:

  • দেহকোষে (Somatic cell)

উদাহরণ:

  • ত্বকের কোষ

  • পেশির কোষ


৬. মাইটোসিসের বৈশিষ্ট্য

১. একটি মাতৃকোষ থেকে দুটি নতুন কোষ তৈরি হয়।

২. অপত্য কোষের ক্রোমোসোম সংখ্যা মাতৃকোষের সমান থাকে।

৩. জিনগত বৈশিষ্ট্য একই থাকে।

৪. দেহের বৃদ্ধি ও ক্ষত নিরাময়ে সাহায্য করে।

৫. এটি দেহকোষে ঘটে।


৭. মাইটোসিসের ধাপসমূহ

মাইটোসিস সম্পন্ন হয় কয়েকটি ধাপে:

১. প্রোফেজ (Prophase)
২. প্রোমেটাফেজ (Prometaphase)
৩. মেটাফেজ (Metaphase)
৪. অ্যানাফেজ (Anaphase)
৫. টেলোফেজ (Telophase)


ধাপ ১: প্রোফেজ (Prophase)

এটি মাইটোসিসের প্রথম ধাপ।

এই পর্যায়ে:

  • ক্রোমাটিন জালিকা ঘনীভূত হয়ে ক্রোমোসোম তৈরি করে।

  • নিউক্লিওলাস অদৃশ্য হয়ে যায়।

  • নিউক্লিয়ার মেমব্রেন ধীরে ধীরে বিলীন হয়।

  • স্পিন্ডল তন্তু তৈরি হতে শুরু করে।

গুরুত্বপূর্ণ:

এই পর্যায়ে ক্রোমোসোম সবচেয়ে স্পষ্ট দেখা যায়।


ধাপ ২: প্রোমেটাফেজ (Prometaphase)

এই ধাপে:

  • নিউক্লিয়ার মেমব্রেন সম্পূর্ণ ভেঙে যায়।

  • স্পিন্ডল তন্তু ক্রোমোসোমের সেন্ট্রোমিয়ারে যুক্ত হয়।

  • ক্রোমোসোম চলাচলের জন্য প্রস্তুত হয়।


ধাপ ৩: মেটাফেজ (Metaphase)

এই পর্যায়ে:

  • ক্রোমোসোমগুলো কোষের মাঝ বরাবর (Equatorial plate) অবস্থান নেয়।

  • প্রতিটি ক্রোমোসোম স্পিন্ডল তন্তুর সাথে যুক্ত থাকে।

এটি ক্রোমোসোম পর্যবেক্ষণের সবচেয়ে ভালো সময়।


ধাপ ৪: অ্যানাফেজ (Anaphase)

এই ধাপে:

  • সেন্ট্রোমিয়ার বিভক্ত হয়।

  • বোন ক্রোমাটিড দুটি আলাদা হয়ে যায়।

  • তারা বিপরীত মেরুর দিকে অগ্রসর হয়।


ধাপ ৫: টেলোফেজ (Telophase)

শেষ ধাপে:

  • দুটি নতুন নিউক্লিয়াস তৈরি হয়।

  • নিউক্লিয়ার মেমব্রেন গঠিত হয়।

  • ক্রোমোসোম আবার ক্রোমাটিনে পরিণত হয়।

এরপর সাইটোপ্লাজম বিভাজনের মাধ্যমে দুটি কন্যা কোষ তৈরি হয়।


৮. মাইটোসিসের গুরুত্ব (Importance of Mitosis)

মাইটোসিস কোষ বিভাজন জীবের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে জীবদেহের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন হয়।


১. জীবের দৈহিক বৃদ্ধি

বহুকোষী জীবের বৃদ্ধি মূলত মাইটোসিসের মাধ্যমে ঘটে।

যেমন:

  • একটি নিষিক্ত ডিম্বাণু (Zygote) বারবার মাইটোসিসের মাধ্যমে বিভক্ত হয়ে পূর্ণাঙ্গ জীব তৈরি করে।

একটি মানুষের দেহে জন্মের পরও:

  • নতুন কোষ তৈরি হয়

  • দেহের আকার বৃদ্ধি পায়


২. ক্ষতস্থান পূরণ

দেহের কোনো অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে মাইটোসিসের মাধ্যমে নতুন কোষ সৃষ্টি হয়।

উদাহরণ:

  • কেটে যাওয়া ত্বক পুনরায় তৈরি হওয়া


৩. মৃত কোষের প্রতিস্থাপন

দেহের অনেক কোষ নির্দিষ্ট সময় পর মারা যায়।

মাইটোসিসের মাধ্যমে:

  • মৃত কোষের জায়গায় নতুন কোষ তৈরি হয়।

উদাহরণ:

  • ত্বকের কোষ

  • রক্তের কিছু কোষ


৪. অযৌন প্রজনন

অনেক এককোষী জীব মাইটোসিসের মাধ্যমে বংশবিস্তার করে।

উদাহরণ:

  • অ্যামিবা

  • ইস্ট


৫. ক্রোমোসোম সংখ্যা স্থির রাখা

মাইটোসিসের মাধ্যমে:

মাতৃকোষের ক্রোমোসোম সংখ্যা = অপত্য কোষের ক্রোমোসোম সংখ্যা

যেমন:

মানুষের ক্ষেত্রে:

মাতৃকোষ → 46টি ক্রোমোসোম

মাইটোসিস

নতুন কোষ → 46টি ক্রোমোসোম


৯. ক্রোমোসোম (Chromosome)

সংজ্ঞা:

নিউক্লিয়াসে অবস্থিত DNA ও প্রোটিন দ্বারা গঠিত সুতার মতো গঠনকে ক্রোমোসোম বলে।

ক্রোমোসোমের মধ্যে বংশগত তথ্য থাকে।


ক্রোমোসোমের গঠন

একটি ক্রোমোসোমের প্রধান অংশ:

১. ক্রোমাটিড (Chromatid)

একটি দ্বিগুণ হওয়া ক্রোমোসোমের দুটি অভিন্ন অংশকে ক্রোমাটিড বলে।


২. সেন্ট্রোমিয়ার (Centromere)

ক্রোমোসোমের যে অংশ দুটি ক্রোমাটিডকে যুক্ত করে তাকে সেন্ট্রোমিয়ার বলে।


৩. DNA

DNA-এর মধ্যে জিন থাকে।

জিন:

  • জীবের বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে।


১০. ক্রোমোসোম ও ক্রোমাটিডের সম্পর্ক

কোষ বিভাজনের আগে:

একটি ক্রোমোসোম DNA অনুলিপির মাধ্যমে দুটি ক্রোমাটিড তৈরি করে।

অর্থাৎ:

একটি ক্রোমোসোম

DNA প্রতিলিপি

দুটি বোন ক্রোমাটিড

মাইটোসিসের অ্যানাফেজ পর্যায়ে:

  • দুটি ক্রোমাটিড আলাদা হয়ে যায়।

  • প্রতিটি নতুন কোষ একটি করে ক্রোমাটিড পায়।


১১. মিয়োসিস (Meiosis)

সংজ্ঞা:

যে কোষ বিভাজনে একটি মাতৃকোষ থেকে চারটি অপত্য কোষ সৃষ্টি হয় এবং অপত্য কোষে ক্রোমোসোম সংখ্যা মাতৃকোষের অর্ধেক হয় তাকে মিয়োসিস কোষ বিভাজন বলে।

একে হ্রাসমূলক বিভাজন (Reduction division) বলা হয়।

কারণ:

  • ক্রোমোসোম সংখ্যা অর্ধেক হয়ে যায়।


১২. মিয়োসিস কোথায় ঘটে?

মিয়োসিস ঘটে:

প্রাণীতে:

  • জনন কোষে (Germ cell)

যেমন:

  • শুক্রাণু তৈরি

  • ডিম্বাণু তৈরি

উদ্ভিদে:

  • জনন কোষ তৈরির সময়


১৩. মিয়োসিসের প্রয়োজনীয়তা

১. যৌন প্রজনন বজায় রাখা

যৌন প্রজননে:

পিতা থেকে একটি হ্যাপ্লয়েড কোষ (n)
+
মাতা থেকে একটি হ্যাপ্লয়েড কোষ (n)

=

ডিপ্লয়েড জাইগোট (2n)

মিয়োসিস না হলে প্রতি প্রজন্মে ক্রোমোসোম সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যেত।


২. বংশগত বৈচিত্র্য সৃষ্টি

মিয়োসিসের সময় জিনের পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন বৈশিষ্ট্যের সৃষ্টি হতে পারে।

এতে:

  • জীবের অভিযোজন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।


১৪. মিয়োসিসের ধাপ

মিয়োসিস দুইবার বিভাজনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়:

মিয়োসিস-I

এটি হ্রাসমূলক বিভাজন।

ধাপ:

১. প্রোফেজ-I
২. মেটাফেজ-I
৩. অ্যানাফেজ-I
৪. টেলোফেজ-I


মিয়োসিস-II

এটি মাইটোসিসের মতো।

ধাপ:

১. প্রোফেজ-II
২. মেটাফেজ-II
৩. অ্যানাফেজ-II
৪. টেলোফেজ-II


১৫. মিয়োসিস-I এর ধাপসমূহ

(ক) প্রোফেজ-I

এটি মিয়োসিসের সবচেয়ে দীর্ঘ ধাপ।

এই পর্যায়ে:

  • সমসংস্থ ক্রোমোসোম (Homologous chromosome) জোড়া তৈরি করে।

  • ক্রসিং ওভার ঘটে।

  • জিনের বিনিময় হয়।

ক্রসিং ওভার (Crossing over)

দুটি সমসংস্থ ক্রোমোসোমের মধ্যে DNA অংশ বিনিময়কে ক্রসিং ওভার বলে।

ফলাফল:

  • নতুন জিনগত বৈচিত্র্য সৃষ্টি হয়।


(খ) মেটাফেজ-I

  • সমসংস্থ ক্রোমোসোমগুলো কোষের মাঝ বরাবর অবস্থান নেয়।

  • স্পিন্ডল তন্তুর সাথে যুক্ত হয়।


(গ) অ্যানাফেজ-I

  • সমসংস্থ ক্রোমোসোম দুটি আলাদা হয়ে বিপরীত মেরুর দিকে যায়।

  • কিন্তু সেন্ট্রোমিয়ার বিভক্ত হয় না।


(ঘ) টেলোফেজ-I

  • দুটি নতুন নিউক্লিয়াস তৈরি হয়।

  • দুটি কোষ সৃষ্টি হয়।


১৬. মিয়োসিস-II

মিয়োসিস-II মাইটোসিসের মতো।

এখানে:

  • সেন্ট্রোমিয়ার বিভক্ত হয়।

  • ক্রোমাটিড আলাদা হয়।

  • চারটি হ্যাপ্লয়েড কোষ তৈরি হয়।


১৭. মাইটোসিস ও মিয়োসিসের পার্থক্য

বিষয়মাইটোসিসমিয়োসিস
বিভাজনের সংখ্যা১ বার২ বার
উৎপন্ন কোষ২টি৪টি
ক্রোমোসোম সংখ্যাসমান থাকেঅর্ধেক হয়
কোথায় ঘটেদেহকোষেজনন কোষে
জিনগত বৈচিত্র্যকমবেশি
কাজবৃদ্ধি ও ক্ষত পূরণজনন কোষ তৈরি

১৮. গুরুত্বপূর্ণ সংজ্ঞা

কোষ বিভাজন:

মাতৃকোষ থেকে নতুন কোষ তৈরির প্রক্রিয়া।

মাইটোসিস:

যে বিভাজনে ক্রোমোসোম সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকে।

মিয়োসিস:

যে বিভাজনে ক্রোমোসোম সংখ্যা অর্ধেক হয়।

ক্রোমোসোম:

DNA ও প্রোটিন দিয়ে গঠিত বংশগতির বাহক।

ক্রসিং ওভার:

সমসংস্থ ক্রোমোসোমের মধ্যে জিন বিনিময়।



১৯. কোষ বিভাজনের চক্র (Cell Division Cycle)

একটি কোষ বিভাজনের আগে কিছু প্রস্তুতিমূলক কাজ সম্পন্ন করে।

এটি সাধারণত তিনটি পর্যায়ে বিভক্ত:

১. বৃদ্ধি পর্যায় (Growth Phase)

এই পর্যায়ে:

  • কোষের আকার বৃদ্ধি পায়।

  • প্রয়োজনীয় প্রোটিন তৈরি হয়।

  • কোষ বিভাজনের জন্য প্রস্তুতি নেয়।


২. DNA প্রতিলিপি (DNA Replication)

এই পর্যায়ে:

  • DNA-এর অনুরূপ নতুন DNA তৈরি হয়।

  • একটি ক্রোমোসোম দুটি অভিন্ন ক্রোমাটিডে পরিণত হয়।

ফলে বিভাজনের সময় প্রতিটি নতুন কোষে সম্পূর্ণ জিনগত তথ্য পৌঁছে যায়।


৩. বিভাজন পর্যায় (Division Phase)

এই পর্যায়ে:

  • নিউক্লিয়াস বিভক্ত হয়।

  • পরে সাইটোপ্লাজম বিভক্ত হয়ে নতুন কোষ তৈরি হয়।


২০. সাইটোকাইনেসিস (Cytokinesis)

সংজ্ঞা:

নিউক্লিয়াস বিভাজনের পর সাইটোপ্লাজম বিভাজনের প্রক্রিয়াকে সাইটোকাইনেসিস বলে।


প্রাণী কোষে সাইটোকাইনেসিস

প্রাণী কোষে:

  • কোষঝিল্লি মাঝখান থেকে ভেতরের দিকে সংকুচিত হয়।

  • একটি খাঁজ তৈরি হয়।

  • শেষে দুটি কোষ সৃষ্টি হয়।

একে Cleavage furrow বলা হয়।


উদ্ভিদ কোষে সাইটোকাইনেসিস

উদ্ভিদ কোষে:

  • মাঝখানে একটি কোষ পাত (Cell plate) তৈরি হয়।

  • পরে এটি নতুন কোষপ্রাচীরে পরিণত হয়।


২১. মাইটোসিসের সহজ চিত্র ধারণা

ধাপ:

মাতৃকোষ

⬇️

প্রোফেজ

ক্রোমোসোম দৃশ্যমান হয়

⬇️

মেটাফেজ

ক্রোমোসোম মাঝখানে অবস্থান নেয়

⬇️

অ্যানাফেজ

ক্রোমাটিড পৃথক হয়

⬇️

টেলোফেজ

দুটি নিউক্লিয়াস তৈরি হয়

⬇️

ফলাফল:

২টি অভিন্ন কন্যা কোষ


২২. মিয়োসিসের সহজ চিত্র ধারণা

প্রথম বিভাজন (Meiosis-I)

মাতৃকোষ (2n)

⬇️

সমসংস্থ ক্রোমোসোম পৃথক

⬇️

২টি কোষ তৈরি

(n)


দ্বিতীয় বিভাজন (Meiosis-II)

২টি কোষ আবার বিভক্ত

⬇️

৪টি হ্যাপ্লয়েড কোষ তৈরি

(n)


২৩. সমসংস্থ ক্রোমোসোম (Homologous Chromosome)

সংজ্ঞা:

এক জোড়া ক্রোমোসোমের মধ্যে যাদের আকৃতি ও জিনের অবস্থান একই, তাদের সমসংস্থ ক্রোমোসোম বলে।

একটি আসে:

  • পিতার কাছ থেকে

অন্যটি আসে:

  • মাতার কাছ থেকে


২৪. হ্যাপ্লয়েড ও ডিপ্লয়েড কোষ

ডিপ্লয়েড (Diploid / 2n)

যে কোষে ক্রোমোসোমের দুটি সেট থাকে তাকে ডিপ্লয়েড বলে।

উদাহরণ:

  • মানুষের দেহকোষ

মানুষের ক্ষেত্রে:

46টি ক্রোমোসোম = 23 জোড়া


হ্যাপ্লয়েড (Haploid / n)

যে কোষে ক্রোমোসোমের একটি সেট থাকে তাকে হ্যাপ্লয়েড বলে।

উদাহরণ:

  • শুক্রাণু

  • ডিম্বাণু

মানুষের ক্ষেত্রে:

23টি ক্রোমোসোম


২৫. মাইটোসিস ও মিয়োসিস মনে রাখার সহজ কৌশল

মাইটোসিস:

M = Maintenance

অর্থাৎ:

  • দেহ রক্ষণাবেক্ষণ

  • বৃদ্ধি

  • ক্ষত পূরণ

ফল:
২টি একই কোষ


মিয়োসিস:

Meiosis = Making gamete

অর্থাৎ:

  • জনন কোষ তৈরি

ফল:
৪টি ভিন্ন কোষ


২৬. গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য (পরীক্ষার জন্য)

বিষয়মাইটোসিসমিয়োসিস
বিভাজনের সংখ্যাএকবারদুইবার
কোথায় ঘটেদেহকোষেজনন কোষে
উৎপন্ন কোষ২টি৪টি
ক্রোমোসোম সংখ্যাঅপরিবর্তিতঅর্ধেক
জিনগত বৈচিত্র্যনেই বা খুব কমবেশি
ক্রসিং ওভারহয় নাহয়
প্রধান কাজবৃদ্ধি ও ক্ষত পূরণযৌন প্রজনন

২৭. সৃজনশীল প্রশ্ন (CQ) প্রস্তুতি

প্রশ্ন–১

রাহিমের হাতে কেটে যাওয়ার কয়েকদিন পর ক্ষতস্থান পূরণ হয়ে গেল।

ক) কোষ বিভাজন কী?

উত্তর:
যে প্রক্রিয়ায় একটি মাতৃকোষ বিভক্ত হয়ে নতুন কোষ সৃষ্টি করে তাকে কোষ বিভাজন বলে।


খ) মাইটোসিসকে সমীকরণিক বিভাজন বলা হয় কেন?

উত্তর:

কারণ মাইটোসিসের ফলে উৎপন্ন কোষে ক্রোমোসোম সংখ্যা মাতৃকোষের সমান থাকে।


গ) ক্ষত নিরাময়ে কোন কোষ বিভাজন কাজ করে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর:

ক্ষত নিরাময়ে মাইটোসিস কাজ করে।

কারণ:

  • ক্ষতিগ্রস্ত কোষের পরিবর্তে নতুন একই ধরনের কোষ তৈরি হয়।


প্রশ্ন–২

একজন জীববিজ্ঞানী জনন কোষ নিয়ে গবেষণা করছেন।

ক) মিয়োসিস কী?

উত্তর:

যে বিভাজনে একটি মাতৃকোষ থেকে চারটি অপত্য কোষ তৈরি হয় এবং ক্রোমোসোম সংখ্যা অর্ধেক হয় তাকে মিয়োসিস বলে।


খ) মিয়োসিস জীবের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কেন?

উত্তর:

কারণ:

  • জনন কোষ তৈরি করে।

  • প্রজাতির ক্রোমোসোম সংখ্যা স্থির রাখে।

  • বৈচিত্র্য সৃষ্টি করে।


২৮. MCQ প্রস্তুতি

১. মাইটোসিসে কয়টি কন্যা কোষ তৈরি হয়?

ক) ১টি
খ) ২টি ✅
গ) ৩টি
ঘ) ৪টি


২. মিয়োসিসে ক্রোমোসোম সংখ্যা কী হয়?

ক) দ্বিগুণ
খ) একই থাকে
গ) অর্ধেক হয় ✅
ঘ) পরিবর্তন হয় না


৩. ক্রসিং ওভার কোন পর্যায়ে ঘটে?

ক) মাইটোসিস
খ) মিয়োসিসের প্রোফেজ-I ✅
গ) টেলোফেজ
ঘ) অ্যানাফেজ


৪. মাইটোসিস প্রধানত কোথায় ঘটে?

ক) জনন কোষে
খ) দেহকোষে ✅
গ) শুক্রাণুতে
ঘ) ডিম্বাণুতে


 অধ্যায়ভিত্তিক সাজেশন + MCQ + সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন + সৃজনশীল প্রশ্ন


A. অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ সাজেশন

পরীক্ষার আগে নিচের বিষয়গুলো অবশ্যই ভালোভাবে পড়তে হবে:

১. কোষ বিভাজনের ধারণা

  • কোষ বিভাজনের সংজ্ঞা

  • প্রয়োজনীয়তা

  • প্রকারভেদ

২. মাইটোসিস

বিশেষ গুরুত্ব:

  • সংজ্ঞা

  • বৈশিষ্ট্য

  • কোথায় ঘটে

  • ধাপসমূহ

  • গুরুত্ব

৩. মিয়োসিস

বিশেষ গুরুত্ব:

  • সংজ্ঞা

  • বৈশিষ্ট্য

  • মিয়োসিস-I ও মিয়োসিস-II

  • ক্রোমোসোম সংখ্যা হ্রাস

  • ক্রসিং ওভার

৪. গুরুত্বপূর্ণ শব্দ

  • ক্রোমোসোম

  • ক্রোমাটিড

  • সেন্ট্রোমিয়ার

  • সমসংস্থ ক্রোমোসোম

  • হ্যাপ্লয়েড

  • ডিপ্লয়েড

৫. তুলনামূলক প্রশ্ন

  • মাইটোসিস বনাম মিয়োসিস


B. গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর


১. কোষ বিভাজন কী?

উত্তর:
যে প্রক্রিয়ায় একটি মাতৃকোষ বিভক্ত হয়ে নতুন অপত্য কোষ সৃষ্টি করে তাকে কোষ বিভাজন বলে।


২. কোষ বিভাজনের প্রয়োজন কেন?

উত্তর:

কোষ বিভাজনের প্রয়োজন:

১. জীবের বৃদ্ধি
২. ক্ষতস্থান পূরণ
৩. মৃত কোষের পরিবর্তন
৪. প্রজনন


৩. মাইটোসিসকে সমীকরণিক বিভাজন বলা হয় কেন?

উত্তর:

মাইটোসিসে উৎপন্ন অপত্য কোষে ক্রোমোসোম সংখ্যা মাতৃকোষের সমান থাকে। তাই একে সমীকরণিক বিভাজন বলে।


৪. মিয়োসিসকে হ্রাসমূলক বিভাজন বলা হয় কেন?

উত্তর:

মিয়োসিসে মাতৃকোষের ক্রোমোসোম সংখ্যা অর্ধেকে নেমে আসে। তাই একে হ্রাসমূলক বিভাজন বলে।


৫. ক্রোমোসোম কী?

উত্তর:

নিউক্লিয়াসে অবস্থিত DNA ও প্রোটিন দিয়ে গঠিত বংশগতির বাহককে ক্রোমোসোম বলে।


৬. ক্রোমাটিড কী?

উত্তর:

DNA প্রতিলিপির পর একটি ক্রোমোসোমের তৈরি দুটি অভিন্ন অংশকে ক্রোমাটিড বলে।


৭. সেন্ট্রোমিয়ার কী?

উত্তর:

ক্রোমোসোমের যে অংশ দুটি ক্রোমাটিডকে যুক্ত রাখে তাকে সেন্ট্রোমিয়ার বলে।


৮. ক্রসিং ওভার কী?

উত্তর:

মিয়োসিসের প্রোফেজ-I পর্যায়ে সমসংস্থ ক্রোমোসোমের মধ্যে DNA অংশের বিনিময়কে ক্রসিং ওভার বলে।

এটি জিনগত বৈচিত্র্য সৃষ্টি করে। 


C. গুরুত্বপূর্ণ MCQ


১. মাইটোসিসে কয়টি কন্যা কোষ সৃষ্টি হয়?

ক) ১টি
খ) ২টি ✅
গ) ৩টি
ঘ) ৪টি


২. মিয়োসিসে কয়টি অপত্য কোষ সৃষ্টি হয়?

ক) ২টি
খ) ৩টি
গ) ৪টি ✅
ঘ) ৮টি


৩. মাইটোসিস কোথায় ঘটে?

ক) জনন কোষে
খ) দেহকোষে ✅
গ) শুক্রাণুতে
ঘ) ডিম্বাণুতে


৪. মিয়োসিসের ফলে ক্রোমোসোম সংখ্যা—

ক) দ্বিগুণ হয়
খ) একই থাকে
গ) অর্ধেক হয় ✅
ঘ) চারগুণ হয়


৫. ক্রসিং ওভার কোন পর্যায়ে ঘটে?

ক) মাইটোসিস
খ) প্রোফেজ-I ✅
গ) টেলোফেজ
ঘ) অ্যানাফেজ


৬. মানুষের দেহকোষে ক্রোমোসোম সংখ্যা কত?

ক) ২৩
খ) ৪৬ ✅
গ) ৪৪
ঘ) ৪৮


৭. মানুষের জনন কোষে ক্রোমোসোম সংখ্যা কত?

ক) ৪৬
খ) ২৩ ✅
গ) ৪৪
ঘ) ২২


D. সৃজনশীল প্রশ্ন (CQ)


CQ-১

রিফাত লক্ষ্য করল, তার শরীরের ক্ষতস্থান কয়েকদিন পর নিজে থেকেই পূরণ হয়ে গেছে।

ক) কোষ বিভাজন কী?

উত্তর:
একটি মাতৃকোষ বিভক্ত হয়ে নতুন কোষ সৃষ্টি করার প্রক্রিয়াকে কোষ বিভাজন বলে।


খ) মাইটোসিসকে সমীকরণিক বিভাজন বলা হয় কেন?

উত্তর:

কারণ মাইটোসিসে:

  • মাতৃকোষের ক্রোমোসোম সংখ্যা

  • অপত্য কোষের ক্রোমোসোম সংখ্যা

সমান থাকে।


গ) রিফাতের ক্ষতস্থান পূরণে কোন বিভাজন কাজ করেছে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর:

রিফাতের ক্ষতস্থান পূরণে মাইটোসিস কাজ করেছে।

কারণ:

  • ক্ষতিগ্রস্ত কোষের পরিবর্তে নতুন একই ধরনের কোষ তৈরি হয়েছে।

  • নতুন কোষে একই জিনগত বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে।


CQ-২

একজন বিজ্ঞানী জনন কোষ তৈরির প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করলেন।

ক) মিয়োসিস কী?

উত্তর:

যে কোষ বিভাজনে একটি মাতৃকোষ থেকে চারটি অপত্য কোষ তৈরি হয় এবং ক্রোমোসোম সংখ্যা অর্ধেক হয় তাকে মিয়োসিস বলে।


খ) মিয়োসিসকে হ্রাসমূলক বিভাজন বলা হয় কেন?

উত্তর:

কারণ মিয়োসিসে ক্রোমোসোম সংখ্যা অর্ধেকে হ্রাস পায়।


গ) যৌন প্রজননে মিয়োসিসের ভূমিকা ব্যাখ্যা কর।

উত্তর:

মিয়োসিস:

  • শুক্রাণু ও ডিম্বাণু তৈরি করে।

  • ক্রোমোসোম সংখ্যা স্থির রাখে।

  • নতুন বৈচিত্র্য সৃষ্টি করে।


CQ-৩

একটি কোষ বিভাজনের সময় ক্রোমোসোম মাঝ বরাবর অবস্থান নেয় এবং পরে দুটি অংশে বিভক্ত হয়।

ক) এটি কোন বিভাজনের ধাপ?

উত্তর:
এটি মাইটোসিসের মেটাফেজ ও অ্যানাফেজ পর্যায়ের ঘটনা।


খ) মেটাফেজের বৈশিষ্ট্য লেখ।

উত্তর:

  • ক্রোমোসোম কোষের মাঝখানে অবস্থান নেয়।

  • স্পিন্ডল তন্তুর সাথে যুক্ত হয়।


E. খুব গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য (মুখস্থ করার জন্য)

বিষয়মাইটোসিসমিয়োসিস
বিভাজন১ বার২ বার
উৎপন্ন কোষ২টি৪টি
ক্রোমোসোমসমানঅর্ধেক
স্থানদেহকোষজনন কোষ
ক্রসিং ওভারনেইআছে
বৈচিত্র্যকমবেশি

মাইটোসিস সাধারণত অভিন্ন কন্যা কোষ তৈরি করে, আর মিয়োসিস জিনগতভাবে ভিন্ন হ্যাপ্লয়েড কোষ তৈরি করে। 


F. এক নজরে অধ্যায়

কোষ বিভাজন
⬇️

২ প্রকার

⬇️

মাইটোসিস

  • বৃদ্ধি

  • ক্ষত পূরণ

  • ২টি কোষ

  • ক্রোমোসোম সংখ্যা অপরিবর্তিত

⬇️

মিয়োসিস

  • জনন কোষ তৈরি

  • ৪টি কোষ

  • ক্রোমোসোম সংখ্যা অর্ধেক

  • বৈচিত্র্য সৃষ্টি



Comments

Pages

Translate

আপনিও লিখুন

Name

Email *

Message *

Popular posts from this blog

Gas Chromatography (GC or GLC)

SUSTAINED RELEASE DOSAGE FORM



animated-world-globe-image-0029Total view web counter

পড়াশোনাতে আপনাকে স্বাগতম
ডাউনোড করুন আমাদের Mobile app;