পঞ্চম অধ্যায়: খাদ্য, পুষ্টি এবং পরিপাক (class 10)
১. খাদ্য (Food)
খাদ্যের সংজ্ঞা
যেসব পদার্থ গ্রহণের মাধ্যমে জীবদেহ শক্তি পায়, বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণ করে এবং জীবনধারণের প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করে তাকে খাদ্য বলে।
মানুষের বেঁচে থাকার জন্য খাদ্য অপরিহার্য।
২. খাদ্যের প্রয়োজনীয়তা
জীবদেহে খাদ্যের প্রধান কাজ:
১. শক্তি সরবরাহ
খাদ্যের শর্করা ও চর্বি ভেঙে শক্তি উৎপন্ন হয়।
এই শক্তি ব্যবহৃত হয়:
চলাফেরা
শারীরিক কাজ
কোষীয় কাজ
২. দেহের বৃদ্ধি
প্রোটিন দেহের নতুন কোষ ও টিস্যু তৈরিতে সাহায্য করে।
বিশেষ করে:
শিশুদের বৃদ্ধি
ক্ষত নিরাময়
৩. ক্ষয়পূরণ
দেহের পুরোনো ও ক্ষতিগ্রস্ত কোষের পরিবর্তে নতুন কোষ তৈরি করতে খাদ্যের প্রয়োজন।
৪. রোগ প্রতিরোধ
ভিটামিন ও খনিজ লবণ দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
৩. পুষ্টি (Nutrition)
সংজ্ঞা:
খাদ্য গ্রহণ, পরিপাক, শোষণ এবং দেহে ব্যবহার করার সামগ্রিক প্রক্রিয়াকে পুষ্টি বলে।
অর্থাৎ:
খাদ্য গ্রহণ
↓
পরিপাক
↓
শোষণ
↓
ব্যবহার
এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াই পুষ্টি।
৪. পুষ্টি উপাদান (Nutrients)
খাদ্যের মধ্যে থাকা প্রয়োজনীয় রাসায়নিক উপাদানকে পুষ্টি উপাদান বলে।
প্রধান পুষ্টি উপাদান:
১. শর্করা (Carbohydrate)
২. প্রোটিন (Protein)
৩. চর্বি (Fat)
৪. ভিটামিন (Vitamin)
৫. খনিজ লবণ (Minerals)
৬. পানি (Water)
৫. শর্করা (Carbohydrate)
সংজ্ঞা:
কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন দিয়ে গঠিত জৈব খাদ্য উপাদানকে শর্করা বলে।
কাজ:
প্রধান শক্তির উৎস।
শরীরের কাজের জন্য দ্রুত শক্তি দেয়।
উৎস:
ভাত
রুটি
আলু
চিনি
প্রকারভেদ:
১. মনোস্যাকারাইড
সরল শর্করা।
উদাহরণ:
গ্লুকোজ
২. ডাইস্যাকারাইড
দুইটি সরল শর্করা নিয়ে গঠিত।
উদাহরণ:
সুক্রোজ
৩. পলিস্যাকারাইড
অনেকগুলো শর্করা একত্রে গঠিত।
উদাহরণ:
স্টার্চ
৬. প্রোটিন (Protein)
সংজ্ঞা:
অ্যামাইনো অ্যাসিড দিয়ে গঠিত জটিল জৈব যৌগকে প্রোটিন বলে।
কাজ:
১. দেহ গঠন করে।
২. ক্ষত সারাতে সাহায্য করে।
৩. এনজাইম ও হরমোন তৈরিতে সাহায্য করে।
উৎস:
মাছ
মাংস
ডিম
দুধ
ডাল
৭. চর্বি (Fat)
সংজ্ঞা:
গ্লিসারল ও ফ্যাটি অ্যাসিড দিয়ে গঠিত খাদ্য উপাদানকে চর্বি বলে।
কাজ:
বেশি শক্তি সরবরাহ করে।
দেহে শক্তি সঞ্চয় করে।
শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
উৎস:
তেল
ঘি
মাখন
বাদাম
৮. ভিটামিন (Vitamin)
ভিটামিন হলো এমন জৈব খাদ্য উপাদান যা অল্প পরিমাণে প্রয়োজন হলেও দেহের স্বাভাবিক কাজের জন্য অপরিহার্য।
ভিটামিনের ধরন
চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন:
ভিটামিন A
কাজ:
দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে।
অভাব:
রাতকানা রোগ
উৎস:
গাজর
দুধ
ভিটামিন D
কাজ:
হাড় ও দাঁত গঠনে সাহায্য করে।
অভাব:
রিকেট রোগ
উৎস:
সূর্যের আলো
মাছের তেল
পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন:
ভিটামিন B
কাজ:
বিপাকীয় কাজে সাহায্য করে।
অভাব:
বেরিবেরি
ভিটামিন C
কাজ:
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
অভাব:
স্কার্ভি
উৎস:
লেবু
কমলা
৯. খনিজ লবণ (Minerals)
খনিজ লবণ দেহের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে প্রয়োজন হয়।
ক্যালসিয়াম
কাজ:
হাড় ও দাঁত শক্ত করে।
উৎস:
দুধ
আয়রন
কাজ:
হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সাহায্য করে।
অভাব:
রক্তশূন্যতা
আয়োডিন
কাজ:
থাইরয়েড হরমোন তৈরিতে সাহায্য করে।
অভাব:
গলগণ্ড
১০. পানি (Water)
পানি দেহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কাজ:
খাদ্য পরিবহন
দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ
বর্জ্য অপসারণ
১১. সুষম খাদ্য (Balanced Diet)
সংজ্ঞা:
যে খাদ্যে দেহের প্রয়োজনীয় সব পুষ্টি উপাদান সঠিক পরিমাণে থাকে তাকে সুষম খাদ্য বলে।
একটি সুষম খাদ্যে থাকে:
শর্করা
প্রোটিন
চর্বি
ভিটামিন
খনিজ লবণ
পানি
১২. অপুষ্টি (Malnutrition)
দেহের প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক পরিমাণ বা সঠিক ধরনের খাদ্য না পাওয়াকে অপুষ্টি বলে।
প্রকার:
১. অপুষ্টি
খাদ্যের ঘাটতি।
২. অতিপুষ্টি
অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ।
৩. ভারসাম্যহীন পুষ্টি
এক বা একাধিক পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি।
পঞ্চম অধ্যায়: খাদ্য, পুষ্টি এবং পরিপাক
পর্ব–২: মানব পরিপাকতন্ত্র (Human Digestive System)
১৩. পরিপাক (Digestion)
সংজ্ঞা:
খাদ্যের জটিল ও অদ্রবণীয় উপাদানকে এনজাইমের সাহায্যে ভেঙে সরল, দ্রবণীয় ও শোষণযোগ্য উপাদানে পরিণত করার প্রক্রিয়াকে পরিপাক বলে।
সহজভাবে:
বড় খাদ্য অণু → ছোট দ্রবণীয় অণু → দেহে শোষণযোগ্য
১৪. পরিপাকের প্রয়োজনীয়তা
আমরা যে খাদ্য গ্রহণ করি তার অধিকাংশ সরাসরি দেহে ব্যবহারযোগ্য নয়।
যেমন:
স্টার্চ → সরাসরি শোষিত হতে পারে না
প্রোটিন → সরাসরি ব্যবহারযোগ্য নয়
চর্বি → বড় অণু
তাই এগুলোকে ভেঙে ছোট অণুতে পরিণত করতে হয়।
১৫. মানব পরিপাকতন্ত্র (Human Digestive System)
মানব পরিপাকতন্ত্র দুই ধরনের অঙ্গ নিয়ে গঠিত:
১. পরিপাকনালি (Alimentary Canal)
এটি একটি দীর্ঘ নলাকার পথ।
অংশসমূহ:
মুখগহ্বর (Mouth)
গলবিল (Pharynx)
খাদ্যনালি (Oesophagus)
পাকস্থলী (Stomach)
ক্ষুদ্রান্ত্র (Small intestine)
বৃহদান্ত্র (Large intestine)
মলাশয় (Rectum)
পায়ু (Anus)
২. সহায়ক গ্রন্থি (Digestive Glands)
এগুলো পরিপাকে সাহায্যকারী রস তৈরি করে।
প্রধান সহায়ক অঙ্গ:
লালাগ্রন্থি
যকৃত
অগ্ন্যাশয়
১৬. মুখগহ্বর (Mouth)
পরিপাকের প্রথম ধাপ মুখে শুরু হয়।
মুখের প্রধান অংশ:
১. দাঁত
কাজ:
খাদ্যকে ছোট ছোট টুকরায় পরিণত করে।
যান্ত্রিক পরিপাকে সাহায্য করে।
২. জিহ্বা
কাজ:
খাদ্য নড়াচড়া করতে সাহায্য করে।
স্বাদ অনুভব করে।
খাদ্য গিলতে সাহায্য করে।
৩. লালাগ্রন্থি (Salivary Gland)
লালা নিঃসরণ করে।
লালায় থাকে:
অ্যামাইলেজ এনজাইম
কাজ:
স্টার্চকে ভেঙে মাল্টোজে পরিণত করে।
১৭. খাদ্যনালি (Oesophagus)
কাজ:
মুখ থেকে খাদ্য পাকস্থলীতে পৌঁছে দেয়।
খাদ্য চলাচলের প্রক্রিয়াকে বলে:
পেরিস্টালসিস (Peristalsis)
এটি হলো খাদ্যনালির পেশির ছন্দময় সংকোচন ও প্রসারণ।
১৮. পাকস্থলী (Stomach)
পাকস্থলী একটি পেশিবহুল থলি।
এখানে খাদ্য কিছু সময় জমা থাকে।
পাকস্থলীর রস (Gastric Juice)
পাকস্থলী থেকে নিঃসৃত হয়:
১. হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (HCl)
কাজ:
জীবাণু ধ্বংস করে।
অম্লীয় পরিবেশ তৈরি করে।
২. পেপসিন এনজাইম
কাজ:
প্রোটিনকে ভেঙে ছোট পেপটাইড তৈরি করে।
৩. মিউকাস
কাজ:
পাকস্থলীর দেয়ালকে অ্যাসিড থেকে রক্ষা করে।
১৯. ক্ষুদ্রান্ত্র (Small Intestine)
ক্ষুদ্রান্ত্র হলো পরিপাকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থান।
এখানে:
খাদ্যের সম্পূর্ণ পরিপাক হয়।
খাদ্য শোষণ হয়।
ক্ষুদ্রান্ত্রের তিনটি অংশ:
ডিওডেনাম (Duodenum)
জেজুনাম (Jejunum)
ইলিয়াম (Ileum)
২০. ক্ষুদ্রান্ত্রে নিঃসৃত রস
ক্ষুদ্রান্ত্রে তিন ধরনের রস কাজ করে:
১. পিত্তরস (Bile)
উৎপন্ন হয়:
যকৃত (Liver) থেকে।
সঞ্চিত থাকে:
পিত্তথলি (Gall bladder) তে।
পিত্তরসের কাজ:
চর্বিকে ছোট ছোট কণায় ভাঙে (Emulsification)।
অম্লীয় খাদ্যকে ক্ষারীয় করে।
২. অগ্ন্যাশয় রস (Pancreatic Juice)
উৎপন্ন হয়:
অগ্ন্যাশয় (Pancreas) থেকে।
এতে থাকে:
অ্যামাইলেজ
ট্রিপসিন
লাইপেজ
কাজ:
অ্যামাইলেজ:
স্টার্চ → সরল শর্করা
ট্রিপসিন:
প্রোটিন → পেপটাইড
লাইপেজ:
চর্বি → ফ্যাটি অ্যাসিড + গ্লিসারল
৩. অন্ত্ররস (Intestinal Juice)
ক্ষুদ্রান্ত্রের দেয়াল থেকে নিঃসৃত হয়।
কাজ:
পরিপাক সম্পূর্ণ করে।
২১. খাদ্যের রাসায়নিক পরিপাক
(ক) শর্করার পরিপাক
মুখে:
স্টার্চ
↓ (অ্যামাইলেজ)
মাল্টোজ
ক্ষুদ্রান্ত্রে:
মাল্টোজ
↓
গ্লুকোজ
(খ) প্রোটিনের পরিপাক
পাকস্থলীতে:
প্রোটিন
↓ (পেপসিন)
পেপটাইড
ক্ষুদ্রান্ত্রে:
পেপটাইড
↓
অ্যামাইনো অ্যাসিড
(গ) চর্বির পরিপাক
ক্ষুদ্রান্ত্রে:
চর্বি
↓ (পিত্তরস + লাইপেজ)
ফ্যাটি অ্যাসিড + গ্লিসারল
২২. শোষণ (Absorption)
সংজ্ঞা:
পরিপাকের পর তৈরি সরল খাদ্য উপাদান রক্ত ও লসিকায় প্রবেশ করার প্রক্রিয়াকে শোষণ বলে।
ক্ষুদ্রান্ত্রের ভিলাই (Villi)
ক্ষুদ্রান্ত্রের ভেতরের দেয়ালে আঙুলের মতো ছোট ছোট গঠন থাকে, যাকে ভিলাই বলে।
ভিলাইয়ের কাজ:
শোষণের ক্ষেত্রফল বৃদ্ধি করে।
খাদ্য উপাদান দ্রুত শোষণ করে।
২৩. বৃহদান্ত্র (Large Intestine)
কাজ:
১. পানি শোষণ করে।
২. অবশিষ্ট বর্জ্যকে মলে পরিণত করে।
২৪. মলত্যাগ (Egestion)
অপাচ্য খাদ্য শরীর থেকে বের হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে মলত্যাগ বলে।
এক নজরে পরিপাক প্রক্রিয়া
খাদ্য গ্রহণ
⬇️
মুখ
(লালা + অ্যামাইলেজ)
⬇️
পাকস্থলী
(HCl + পেপসিন)
⬇️
ক্ষুদ্রান্ত্র
(পিত্তরস + অগ্ন্যাশয় রস + অন্ত্ররস)
⬇️
শোষণ
⬇️
রক্তে পরিবহন
⬇️
দেহে ব্যবহার
পরিপাক এনজাইম, যকৃত, অগ্ন্যাশয়, পুষ্টিজনিত রোগ ও পরীক্ষার প্রস্তুতি
২৫. পরিপাক এনজাইম (Digestive Enzymes)
এনজাইম কী?
যে বিশেষ ধরনের প্রোটিন জাতীয় জৈব অনুঘটক খাদ্যের জটিল অণুকে সরল অণুতে ভেঙে পরিপাকে সাহায্য করে তাকে পরিপাক এনজাইম বলে।
এনজাইম নিজে ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না, কিন্তু রাসায়নিক বিক্রিয়ার গতি বৃদ্ধি করে।
প্রধান পরিপাক এনজাইমের তালিকা
| এনজাইম | উৎপত্তিস্থল | খাদ্য উপাদান | উৎপন্ন পদার্থ |
|---|---|---|---|
| লালার অ্যামাইলেজ | লালাগ্রন্থি | স্টার্চ | মাল্টোজ |
| পেপসিন | পাকস্থলী | প্রোটিন | পেপটাইড |
| ট্রিপসিন | অগ্ন্যাশয় | প্রোটিন | পেপটাইড |
| অ্যামাইলেজ | অগ্ন্যাশয় | শর্করা | সরল শর্করা |
| লাইপেজ | অগ্ন্যাশয় | চর্বি | ফ্যাটি অ্যাসিড + গ্লিসারল |
| মাল্টেজ | ক্ষুদ্রান্ত্র | মাল্টোজ | গ্লুকোজ |
২৬. যকৃত (Liver)
যকৃত মানবদেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি।
এটি পরিপাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
যকৃতের কাজ
১. পিত্তরস তৈরি
যকৃত থেকে পিত্তরস (Bile juice) তৈরি হয়।
এটি পিত্তথলিতে জমা থাকে।
২. চর্বি পরিপাকে সাহায্য
পিত্তরস চর্বিকে ছোট ছোট কণায় ভেঙে দেয়।
এই প্রক্রিয়াকে বলে:
ইমালসিফিকেশন (Emulsification)
ফলে লাইপেজ সহজে চর্বির উপর কাজ করতে পারে।
৩. বিষাক্ত পদার্থ অপসারণ
যকৃত রক্ত থেকে ক্ষতিকর পদার্থ অপসারণে সাহায্য করে।
৪. খাদ্য সঞ্চয়
যকৃত:
গ্লাইকোজেন হিসেবে গ্লুকোজ জমা রাখে।
প্রয়োজন হলে শক্তির জন্য ব্যবহার করে।
২৭. অগ্ন্যাশয় (Pancreas)
অগ্ন্যাশয় একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক পরিপাক গ্রন্থি।
অগ্ন্যাশয়ের কাজ
অগ্ন্যাশয় থেকে অগ্ন্যাশয় রস নিঃসৃত হয়।
এতে থাকে:
১. অ্যামাইলেজ
কাজ:
শর্করা → সরল শর্করা
২. ট্রিপসিন
কাজ:
প্রোটিন → পেপটাইড
৩. লাইপেজ
কাজ:
চর্বি → ফ্যাটি অ্যাসিড + গ্লিসারল
২৮. পরিপাকের ধাপ সংক্ষেপে
মুখ
খাদ্য চিবানো
↓
লালা মেশে
↓
স্টার্চের আংশিক পরিপাক
পাকস্থলী
HCl + পেপসিন
↓
প্রোটিনের পরিপাক শুরু
ক্ষুদ্রান্ত্র
পিত্তরস + অগ্ন্যাশয় রস + অন্ত্ররস
↓
সম্পূর্ণ পরিপাক
↓
শোষণ
বৃহদান্ত্র
পানি শোষণ
↓
মল তৈরি
২৯. পুষ্টিজনিত রোগ (Deficiency Diseases)
দেহে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের অভাবে বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি হয়।
১. প্রোটিনের অভাবজনিত রোগ
কোয়াশিওরকর (Kwashiorkor)
কারণ:
প্রোটিনের অভাব
লক্ষণ:
পেট ফুলে যাওয়া
দুর্বলতা
বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়া
২. প্রোটিন ও ক্যালরির ঘাটতি
ম্যারাসমাস (Marasmus)
কারণ:
পর্যাপ্ত খাদ্যের অভাব
লক্ষণ:
অতিরিক্ত শুকিয়ে যাওয়া
ওজন কমে যাওয়া
দুর্বলতা
৩. আয়রনের অভাব
রক্তশূন্যতা (Anaemia)
কারণ:
আয়রনের ঘাটতি
লক্ষণ:
দুর্বলতা
মাথা ঘোরা
ফ্যাকাশে ভাব
৪. আয়োডিনের অভাব
গলগণ্ড (Goitre)
কারণ:
আয়োডিনের অভাব
লক্ষণ:
থাইরয়েড গ্রন্থি ফুলে যাওয়া
৫. ভিটামিনের অভাবজনিত রোগ
| ভিটামিন | অভাবজনিত রোগ |
|---|---|
| ভিটামিন A | রাতকানা |
| ভিটামিন B₁ | বেরিবেরি |
| ভিটামিন C | স্কার্ভি |
| ভিটামিন D | রিকেট |
৩০. গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
১. পরিপাক কী?
উত্তর:
খাদ্যের জটিল উপাদানকে এনজাইমের সাহায্যে সরল ও শোষণযোগ্য উপাদানে পরিণত করার প্রক্রিয়াকে পরিপাক বলে।
২. ক্ষুদ্রান্ত্রকে পরিপাকের প্রধান স্থান বলা হয় কেন?
উত্তর:
কারণ:
এখানে খাদ্যের সম্পূর্ণ পরিপাক হয়।
এখানে পুষ্টি উপাদান শোষিত হয়।
৩. পিত্তরসের কাজ কী?
উত্তর:
পিত্তরস চর্বিকে ছোট ছোট কণায় ভেঙে লাইপেজের কাজ সহজ করে।
৪. ভিলাই কী?
উত্তর:
ক্ষুদ্রান্ত্রের ভেতরের দেয়ালে অবস্থিত আঙুলের মতো ছোট ছোট গঠনকে ভিলাই বলে।
কাজ:
খাদ্য শোষণ বৃদ্ধি করা।
৫. পেপসিনের কাজ কী?
উত্তর:
পেপসিন পাকস্থলীতে প্রোটিনকে পেপটাইডে ভেঙে দেয়।
৩১. MCQ প্রস্তুতি
১. স্টার্চ পরিপাকে কোন এনজাইম কাজ করে?
ক) পেপসিন
খ) অ্যামাইলেজ ✅
গ) লাইপেজ
ঘ) ট্রিপসিন
২. পিত্তরস কোথা থেকে নিঃসৃত হয়?
ক) পাকস্থলী
খ) যকৃত ✅
গ) অগ্ন্যাশয়
ঘ) ক্ষুদ্রান্ত্র
৩. প্রোটিন পরিপাকে কোন এনজাইম কাজ করে?
ক) লাইপেজ
খ) পেপসিন ✅
গ) অ্যামাইলেজ
ঘ) মাল্টেজ
৪. ভিটামিন C-এর অভাবে কোন রোগ হয়?
ক) রিকেট
খ) স্কার্ভি ✅
গ) গলগণ্ড
ঘ) রাতকানা
৩২. সৃজনশীল প্রশ্ন (CQ)
প্রশ্ন:
রুবেল খাদ্য গ্রহণের পর খাদ্য পাকস্থলী ও ক্ষুদ্রান্ত্রে গিয়ে বিভিন্ন রসে মিশে সরল পদার্থে পরিণত হয়।
ক) এনজাইম কী?
উত্তর:
এনজাইম হলো প্রোটিন জাতীয় জৈব অনুঘটক যা খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে।
খ) ক্ষুদ্রান্ত্রের গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর।
উত্তর:
ক্ষুদ্রান্ত্রে:
খাদ্যের সম্পূর্ণ পরিপাক হয়।
ভিলাইয়ের মাধ্যমে পুষ্টি শোষিত হয়।
রক্তে খাদ্য উপাদান পৌঁছে যায়।
গ) যকৃত ও অগ্ন্যাশয়ের ভূমিকা ব্যাখ্যা কর।
উত্তর:
যকৃত:
পিত্তরস তৈরি করে।
চর্বি পরিপাকে সাহায্য করে।
অগ্ন্যাশয়:
অ্যামাইলেজ, ট্রিপসিন ও লাইপেজ তৈরি করে।
শর্করা, প্রোটিন ও চর্বি পরিপাকে সাহায্য করে।
অধ্যায় ৫-এর মূল বিষয় মনে রাখবে:
✅ খাদ্য → পুষ্টি → পরিপাক → শোষণ
✅ মুখে পরিপাক শুরু
✅ পাকস্থলীতে প্রোটিন পরিপাক
✅ ক্ষুদ্রান্ত্রে সম্পূর্ণ পরিপাক ও শোষণ
✅ যকৃত → পিত্তরস
✅ অগ্ন্যাশয় → পরিপাক এনজাইম
✅ ভিলাই → শোষণ বৃদ্ধি
Comments
Post a Comment
Thanks