কুইজ জেনারেটর

If you need pdf note please contact me over messenger.

চতুর্থ অধ্যায়: জীবনীশক্তি (class 10)

চতুর্থ অধ্যায়: জীবনীশক্তি

(Bioenergetics)


১. জীবনীশক্তি (Bioenergetics) কী?

সংজ্ঞা:

জীবদেহে সংঘটিত বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে শক্তির উৎপাদন, রূপান্তর ও ব্যবহারের প্রক্রিয়া নিয়ে জীববিজ্ঞানের যে শাখায় আলোচনা করা হয় তাকে জীবনীশক্তি (Bioenergetics) বলে।

সহজ ভাষায়:

জীব কীভাবে শক্তি গ্রহণ করে, তৈরি করে এবং ব্যবহার করে—তার অধ্যয়নই জীবনীশক্তি।


২. জীবদেহে শক্তির প্রয়োজনীয়তা

জীবের প্রতিটি কাজের জন্য শক্তি প্রয়োজন।

যেমন:

১. বৃদ্ধি (Growth)

  • নতুন কোষ তৈরি

  • দেহের আকার বৃদ্ধি

২. চলন (Movement)

  • পেশির সংকোচন ও প্রসারণ

৩. বিপাকীয় কাজ (Metabolism)

  • খাদ্য ভাঙা

  • নতুন পদার্থ তৈরি

৪. পরিবহন

  • কোষের ভিতরে বিভিন্ন পদার্থ চলাচল

৫. প্রজনন

  • নতুন জীব সৃষ্টির জন্য শক্তি প্রয়োজন


৩. ATP: জীবদেহের শক্তির মুদ্রা

ATP এর পূর্ণরূপ:

Adenosine Triphosphate

ATP হলো জীবকোষের প্রধান শক্তিবাহক অণু।

বইয়ে ATP-কে জীবনীশক্তির প্রধান উৎস হিসেবে আলোচনা করা হয়েছে।


ATP এর গঠন

ATP তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত:

১. অ্যাডেনিন (Adenine)

  • নাইট্রোজেনযুক্ত ক্ষারক

২. রাইবোজ শর্করা (Ribose sugar)

  • পাঁচ কার্বনবিশিষ্ট শর্করা

৩. তিনটি ফসফেট গ্রুপ (Phosphate group)

গঠন:

Adenine + Ribose + 3 Phosphate = ATP


৪. ATP কীভাবে শক্তি সরবরাহ করে?

ATP-এর শেষ ফসফেট বন্ধন ভাঙলে শক্তি মুক্ত হয়।

বিক্রিয়া:

ATP → ADP + Pi + শক্তি

এখানে:

ATP = Adenosine Triphosphate
ADP = Adenosine Diphosphate
Pi = Inorganic phosphate

এই শক্তি ব্যবহার হয়:

  • পেশি সংকোচনে

  • সক্রিয় পরিবহনে

  • জৈব সংশ্লেষণে


৫. ATP কেন শক্তির মুদ্রা বলা হয়?

ATP-কে শক্তির মুদ্রা বলা হয় কারণ:

১. প্রায় সব জীবকোষ ATP ব্যবহার করে।

২. ATP সহজে শক্তি জমা রাখতে পারে।

৩. প্রয়োজনের সময় দ্রুত শক্তি সরবরাহ করতে পারে।

৪. শক্তি উৎপাদন ও ব্যবহারের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে।


৬. শক্তির উৎস

জীবদেহের প্রধান শক্তির উৎস হলো:

সূর্যালোক

উদ্ভিদ:

  • সূর্যালোক গ্রহণ করে

  • সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে খাদ্য তৈরি করে

প্রাণী:

  • উদ্ভিদ বা অন্য প্রাণী খেয়ে শক্তি পায়


৭. সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis)

সংজ্ঞা:

যে প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ সূর্যালোকের উপস্থিতিতে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি ব্যবহার করে শর্করা তৈরি করে তাকে সালোকসংশ্লেষণ বলে।

বইয়ে সালোকসংশ্লেষণের সংজ্ঞা ও রাসায়নিক সমীকরণ আলোচনা করা হয়েছে।


সালোকসংশ্লেষণের সাধারণ সমীকরণ:

6CO2+6H2Oআলো,ক্লোরোফিলC6H12O6+6O26CO_2 + 6H_2O \xrightarrow{আলো, ক্লোরোফিল} C_6H_{12}O_6 + 6O_2

অর্থাৎ:

কার্বন ডাই-অক্সাইড

  • পানি
    → গ্লুকোজ

  • অক্সিজেন


৮. সালোকসংশ্লেষণের প্রয়োজনীয় উপাদান

১. কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂)

উৎস:

  • বায়ুমণ্ডল

কাজ:

  • গ্লুকোজ তৈরির জন্য কার্বন সরবরাহ করে।


২. পানি (H₂O)

উৎস:

  • মাটি

কাজ:

  • হাইড্রোজেন সরবরাহ করে।


৩. সূর্যালোক

কাজ:

  • রাসায়নিক শক্তি তৈরির জন্য শক্তি সরবরাহ করে।


৪. ক্লোরোফিল

কাজ:

  • সূর্যের আলো শোষণ করে।


৯. সালোকসংশ্লেষণের গুরুত্ব

১. খাদ্য উৎপাদন

উদ্ভিদ নিজের খাদ্য তৈরি করে।


২. অক্সিজেন সরবরাহ

বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেন যোগ করে।


৩. খাদ্যশৃঙ্খলের ভিত্তি

পৃথিবীর অধিকাংশ জীব সরাসরি বা পরোক্ষভাবে উদ্ভিদের উপর নির্ভরশীল।


৪. সৌরশক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর

সূর্যের শক্তি গ্লুকোজে জমা হয়।



১০. সালোকসংশ্লেষণের ধাপসমূহ

সালোকসংশ্লেষণ প্রধানত দুটি ধাপে সম্পন্ন হয়:

১. আলোক বিক্রিয়া (Light Reaction)
২. অন্ধকার বিক্রিয়া / অন্ধকার পর্যায় (Dark Reaction)


১. আলোক বিক্রিয়া (Light Reaction)

সংজ্ঞা:

যে পর্যায়ে সূর্যের আলোর উপস্থিতিতে পানি ভেঙে অক্সিজেন উৎপন্ন হয় এবং ATP ও NADPH তৈরি হয় তাকে আলোক বিক্রিয়া বলে।

এটি ক্লোরোপ্লাস্টের গ্রানা (Grana) অংশে ঘটে।


আলোক বিক্রিয়ার প্রধান ঘটনা

১. আলোক শোষণ

  • ক্লোরোফিল সূর্যের আলো শোষণ করে।

  • আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।


২. পানির আলোক বিশ্লেষণ (Photolysis of Water)

আলোর উপস্থিতিতে পানি ভেঙে যায়।

বিক্রিয়া:

2H₂O → 4H⁺ + 4e⁻ + O₂

ফলাফল:

  • অক্সিজেন মুক্ত হয়।

  • ইলেকট্রন সরবরাহ হয়।

  • হাইড্রোজেন উৎপন্ন হয়।


৩. ATP তৈরি

আলোক বিক্রিয়ায় ADP ও ফসফেট থেকে ATP তৈরি হয়।

এটি একটি শক্তি সঞ্চয়কারী অণু।


৪. NADPH তৈরি

ইলেকট্রন ও হাইড্রোজেন যুক্ত হয়ে NADPH তৈরি হয়।

NADPH পরবর্তী পর্যায়ে শক্তি ও হাইড্রোজেন সরবরাহ করে।


আলোক বিক্রিয়ার ফলাফল

উৎপন্ন পদার্থকাজ
ATPশক্তি সরবরাহ করে
NADPHহাইড্রোজেন ও ইলেকট্রন বহন করে
O₂পরিবেশে মুক্ত হয়

১১. অন্ধকার বিক্রিয়া (Dark Reaction)

সংজ্ঞা:

যে পর্যায়ে আলোর সরাসরি প্রয়োজন ছাড়াই CO₂ ব্যবহার করে গ্লুকোজ তৈরি হয় তাকে অন্ধকার বিক্রিয়া বলে।

এটি ক্লোরোপ্লাস্টের স্ট্রোমা (Stroma) অংশে ঘটে।


অন্ধকার বিক্রিয়ার প্রধান ধাপ

১. কার্বন স্থিরীকরণ (Carbon Fixation)

  • CO₂ গ্রহণ করা হয়।

  • CO₂ একটি গ্রহণকারী যৌগের সাথে যুক্ত হয়।


২. হ্রাস বিক্রিয়া (Reduction)

  • ATP শক্তি দেয়।

  • NADPH হাইড্রোজেন সরবরাহ করে।

  • কার্বোহাইড্রেট তৈরি হয়।


৩. পুনর্গঠন (Regeneration)

  • CO₂ গ্রহণকারী পদার্থ আবার তৈরি হয়।

  • চক্র চলতে থাকে।


১২. ক্লোরোপ্লাস্টের ভূমিকা

ক্লোরোপ্লাস্ট হলো উদ্ভিদ কোষের বিশেষ অঙ্গাণু যেখানে সালোকসংশ্লেষণ ঘটে।

এর দুটি প্রধান অংশ:

১. গ্রানা (Grana)

কাজ:

  • আলোক বিক্রিয়া সম্পন্ন করে।

এখানে থাকে:

  • ক্লোরোফিল

  • আলোক শোষণকারী উপাদান


২. স্ট্রোমা (Stroma)

কাজ:

  • অন্ধকার বিক্রিয়া সম্পন্ন করে।

এখানে:

  • CO₂ থেকে গ্লুকোজ তৈরি হয়।


১৩. শ্বসন (Respiration)

সংজ্ঞা:

যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় খাদ্যের জৈব অণু ভেঙে শক্তি উৎপন্ন হয় তাকে শ্বসন বলে।

শ্বসনের মাধ্যমে:

গ্লুকোজ → শক্তি (ATP)


শ্বসনের সাধারণ সমীকরণ:

C6H12O6+6O26CO2+6H2O+শক্তিC_6H_{12}O_6 + 6O_2 → 6CO_2 + 6H_2O + শক্তি


১৪. শ্বসনের প্রয়োজনীয়তা

শ্বসনের মাধ্যমে উৎপন্ন ATP ব্যবহৃত হয়:

  • দেহের চলাচলে

  • বৃদ্ধি ও বিকাশে

  • সক্রিয় পরিবহনে

  • কোষীয় কাজে


১৫. শ্বসনের প্রকারভেদ

শ্বসন দুই ধরনের:

১. সবাত শ্বসন (Aerobic Respiration)

২. অবাত শ্বসন (Anaerobic Respiration)


১. সবাত শ্বসন (Aerobic Respiration)

সংজ্ঞা:

অক্সিজেনের উপস্থিতিতে গ্লুকোজ সম্পূর্ণভাবে ভেঙে শক্তি উৎপন্ন হলে তাকে সবাত শ্বসন বলে।


বৈশিষ্ট্য:

  • অক্সিজেন প্রয়োজন।

  • সম্পূর্ণ খাদ্য বিশ্লেষণ হয়।

  • বেশি ATP উৎপন্ন হয়।


স্থান:

মূলত:

  • মাইটোকন্ড্রিয়ায় ঘটে।


উৎপাদিত পদার্থ:

  • CO₂

  • পানি

  • ATP


২. অবাত শ্বসন (Anaerobic Respiration)

সংজ্ঞা:

অক্সিজেন ছাড়া খাদ্য ভেঙে শক্তি উৎপন্ন হলে তাকে অবাত শ্বসন বলে।


বৈশিষ্ট্য:

  • অক্সিজেন প্রয়োজন নেই।

  • কম শক্তি উৎপন্ন হয়।

  • খাদ্য সম্পূর্ণ ভাঙে না।


উদাহরণ:

ইস্টে:

গ্লুকোজ → অ্যালকোহল + CO₂ + শক্তি


পেশিতে:

অক্সিজেনের অভাবে:

গ্লুকোজ → ল্যাকটিক অ্যাসিড + শক্তি


১৬. সবাত ও অবাত শ্বসনের পার্থক্য

বিষয়সবাত শ্বসনঅবাত শ্বসন
অক্সিজেনপ্রয়োজনপ্রয়োজন নেই
খাদ্য ভাঙনসম্পূর্ণঅসম্পূর্ণ
শক্তি উৎপাদনবেশিকম
স্থানমাইটোকন্ড্রিয়াসাইটোপ্লাজম
উৎপাদনCO₂ + পানিঅ্যালকোহল/ল্যাকটিক অ্যাসিড

১৭. মাইটোকন্ড্রিয়ার ভূমিকা

মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের শক্তিঘর (Power house) বলা হয়।

কারণ:

  • এখানে সবাত শ্বসন ঘটে।

  • খাদ্যের শক্তি ATP-তে রূপান্তরিত হয়।

মাইটোকন্ড্রিয়ার অংশ:

১. বাইরের ঝিল্লি
২. ভেতরের ঝিল্লি
৩. ক্রিস্টি (Cristae)
৪. ম্যাট্রিক্স (Matrix)


১৮. জীবনীশক্তির সম্পর্ক (Summary)

সূর্যালোক

উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণ

গ্লুকোজ তৈরি

শ্বসন

ATP উৎপন্ন

জীবনের সব কাজ সম্পন্ন


চতুর্থ অধ্যায়: জীবনীশক্তি (Bioenergetics)

পর্ব–৩: ATP চক্র, সালোকসংশ্লেষণ ও শ্বসনের সম্পর্ক, পরীক্ষার প্রস্তুতি


১৯. ATP চক্র (ATP Cycle)

ATP হলো কোষের তাৎক্ষণিক শক্তির প্রধান বাহক। কোষ ATP ব্যবহার করে বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করে। 

ATP বারবার তৈরি ও ভাঙার মাধ্যমে শক্তির আদান-প্রদান করে।


ATP ভাঙার প্রক্রিয়া (Hydrolysis)

যখন কোষের শক্তি প্রয়োজন হয়:

ATPADP+Pi+শক্তিATP \rightarrow ADP + Pi + শক্তি

এখানে:

  • ATP = Adenosine Triphosphate

  • ADP = Adenosine Diphosphate

  • Pi = অজৈব ফসফেট

ফলাফল:

  • ফসফেট বিচ্ছিন্ন হয়।

  • শক্তি মুক্ত হয়।

  • কোষ সেই শক্তি ব্যবহার করে।


ATP তৈরির প্রক্রিয়া

যখন শক্তি সঞ্চয় করতে হয়:

ADP+Pi+শক্তিATPADP + Pi + শক্তি \rightarrow ATP

অর্থাৎ:

ADP + ফসফেট + শক্তি
→ ATP


২০. ATP কোথায় তৈরি হয়?

ATP বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় তৈরি হতে পারে।

১. মাইটোকন্ড্রিয়ায়

সবাত শ্বসনের সময় মাইটোকন্ড্রিয়ায় প্রচুর ATP তৈরি হয়।

তাই মাইটোকন্ড্রিয়াকে বলা হয়:

কোষের শক্তিঘর (Power House)


২. ক্লোরোপ্লাস্টে

সালোকসংশ্লেষণের আলোক বিক্রিয়ায় ATP তৈরি হয়।

এ ATP ব্যবহার করে পরবর্তী পর্যায়ে গ্লুকোজ তৈরি হয়। 


২১. সালোকসংশ্লেষণ ও শ্বসনের সম্পর্ক

এই দুটি প্রক্রিয়া একে অপরের বিপরীত হলেও পরস্পরের সাথে সম্পর্কযুক্ত।


সালোকসংশ্লেষণ:

কার্বন ডাই-অক্সাইড + পানি + সূর্যালোক

গ্লুকোজ + অক্সিজেন


শ্বসন:

গ্লুকোজ + অক্সিজেন

কার্বন ডাই-অক্সাইড + পানি + ATP



সম্পর্কটি সহজে মনে রাখার উপায়:

উদ্ভিদ:

সূর্যের আলো ব্যবহার করে খাদ্য তৈরি করে।

খাদ্য:

গ্লুকোজে শক্তি জমা থাকে।

শ্বসন:

গ্লুকোজ ভেঙে ATP তৈরি করে।

ATP:

জীবনের কাজ পরিচালনা করে।


২২. শক্তির প্রবাহ (Energy Flow)

পৃথিবীর অধিকাংশ জীবের শক্তির মূল উৎস হলো সূর্য।

ধাপ:

সূর্য
⬇️
সবুজ উদ্ভিদ
⬇️
গ্লুকোজ
⬇️
শ্বসন
⬇️
ATP
⬇️
জীবদেহের কাজ


২৩. সালোকসংশ্লেষণ বনাম শ্বসন

বিষয়সালোকসংশ্লেষণশ্বসন
কাজখাদ্য তৈরিখাদ্য ভেঙে শক্তি উৎপন্ন
স্থানক্লোরোপ্লাস্টমাইটোকন্ড্রিয়া
শক্তিসঞ্চয় করেমুক্ত করে
প্রয়োজনআলো প্রয়োজনআলো প্রয়োজন নেই
CO₂গ্রহণ করেউৎপন্ন করে
O₂উৎপন্ন করেগ্রহণ করে

২৪. জীবনীশক্তিতে মাইটোকন্ড্রিয়ার ভূমিকা

মাইটোকন্ড্রিয়া হলো শক্তি উৎপাদনের প্রধান স্থান।

এর অংশ:

১. বাইরের ঝিল্লি

  • মাইটোকন্ড্রিয়াকে ঘিরে রাখে।


২. ভেতরের ঝিল্লি

  • এতে বিভিন্ন এনজাইম থাকে।

  • ATP তৈরির গুরুত্বপূর্ণ কাজ হয়।


৩. ক্রিস্টি (Cristae)

ভেতরের ঝিল্লির ভাঁজ।

কাজ:

  • পৃষ্ঠতল বৃদ্ধি করে।

  • বেশি ATP তৈরিতে সাহায্য করে।


৪. ম্যাট্রিক্স (Matrix)

এখানে:

  • বিভিন্ন এনজাইম থাকে।

  • শ্বসনের গুরুত্বপূর্ণ বিক্রিয়া ঘটে।


২৫. জীবনীশক্তির গুরুত্ব

জীবনীশক্তির মাধ্যমে:

১. জীবিত থাকা সম্ভব হয়

কারণ সব জীবনক্রিয়ার জন্য শক্তি প্রয়োজন।


২. কোষীয় কাজ সম্পন্ন হয়

যেমন:

  • প্রোটিন তৈরি

  • পদার্থ পরিবহন

  • কোষ বিভাজন


৩. জীবের বৃদ্ধি ও বিকাশ ঘটে

শক্তি ছাড়া:

  • নতুন কোষ তৈরি

  • দেহের বৃদ্ধি সম্ভব নয়।


২৬. গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন

১. জীবনীশক্তি কী?

উত্তর:
জীবদেহে শক্তির উৎপাদন, রূপান্তর ও ব্যবহারের প্রক্রিয়া নিয়ে জীববিজ্ঞানের যে শাখায় আলোচনা করা হয় তাকে জীবনীশক্তি বলে।


২. ATP-কে শক্তির মুদ্রা বলা হয় কেন?

উত্তর:
কারণ ATP কোষের প্রয়োজনীয় শক্তি সংরক্ষণ ও সরবরাহ করে।


৩. ক্লোরোপ্লাস্টের কাজ কী?

উত্তর:
ক্লোরোপ্লাস্টে সালোকসংশ্লেষণ সম্পন্ন হয়।


৪. মাইটোকন্ড্রিয়াকে শক্তিঘর বলা হয় কেন?

উত্তর:
কারণ মাইটোকন্ড্রিয়ায় শ্বসনের মাধ্যমে ATP উৎপন্ন হয়।


৫. সবাত শ্বসন কী?

উত্তর:
অক্সিজেনের উপস্থিতিতে গ্লুকোজ সম্পূর্ণ ভেঙে ATP উৎপন্ন করার প্রক্রিয়াকে সবাত শ্বসন বলে।


২৭. MCQ প্রস্তুতি

১. ATP-এর পূর্ণরূপ কী?

ক) Adenosine Triphosphate ✅
খ) Adenine Protein
গ) Amino Triphosphate
ঘ) Adenosine Protein


২. সালোকসংশ্লেষণ কোথায় ঘটে?

ক) নিউক্লিয়াস
খ) মাইটোকন্ড্রিয়া
গ) ক্লোরোপ্লাস্ট ✅
ঘ) রাইবোসোম


৩. ATP উৎপাদনের প্রধান স্থান কোনটি?

ক) গলজি বডি
খ) মাইটোকন্ড্রিয়া ✅
গ) লাইসোসোম
ঘ) নিউক্লিয়াস


৪. অবাত শ্বসনে কোনটি উৎপন্ন হতে পারে?

ক) অক্সিজেন
খ) অ্যালকোহল ✅
গ) ক্লোরোফিল
ঘ) গ্লুকোজ


২৮. সৃজনশীল প্রশ্ন

প্রশ্ন:

একটি উদ্ভিদ সূর্যালোক ব্যবহার করে খাদ্য তৈরি করে। সেই খাদ্য পরে কোষে ভেঙে শক্তি উৎপন্ন হয়।

ক) ATP কী?

উত্তর:
ATP হলো জীবকোষের প্রধান শক্তিবাহক অণু।


খ) সালোকসংশ্লেষণের গুরুত্ব লেখ।

উত্তর:

  • খাদ্য তৈরি করে।

  • অক্সিজেন সরবরাহ করে।

  • সৌরশক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর করে।


গ) খাদ্য থেকে শক্তি উৎপাদনের প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা কর।

উত্তর:

গ্লুকোজ শ্বসনের মাধ্যমে ভেঙে যায়। এই প্রক্রিয়ায় শক্তি ATP আকারে সঞ্চিত হয়। ATP পরে কোষের বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়।


অধ্যায় ৪ শেষ করার আগে অবশ্যই মনে রাখবে:

✅ ATP = শক্তির মুদ্রা
✅ ক্লোরোপ্লাস্ট = সালোকসংশ্লেষণের স্থান
✅ মাইটোকন্ড্রিয়া = শ্বসনের প্রধান স্থান
✅ আলোক বিক্রিয়া → ATP + NADPH + O₂
✅ অন্ধকার বিক্রিয়া → CO₂ থেকে গ্লুকোজ
✅ সবাত শ্বসন → বেশি ATP
✅ অবাত শ্বসন → কম ATP


Comments

Pages

Translate

আপনিও লিখুন

Name

Email *

Message *

Popular posts from this blog

Gas Chromatography (GC or GLC)

SUSTAINED RELEASE DOSAGE FORM



animated-world-globe-image-0029Total view web counter

পড়াশোনাতে আপনাকে স্বাগতম
ডাউনোড করুন আমাদের Mobile app;