ষষ্ঠ অধ্যায়: জীবের পরিবহন (class 10)
ষষ্ঠ অধ্যায়: জীবের পরিবহন
(Transport in Organisms)
এই অধ্যায়ে আমরা জানব:
জীবদেহে পরিবহনের প্রয়োজনীয়তা
উদ্ভিদের পরিবহন ব্যবস্থা
প্রাণীর রক্ত সংবহন ব্যবস্থা
রক্ত ও রক্তের উপাদান
হৃদপিণ্ডের গঠন ও কাজ
রক্তনালির ধরন
লসিকা তন্ত্র
১. জীবের পরিবহন (Transport) কী?
সংজ্ঞা:
জীবদেহের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে প্রয়োজনীয় পদার্থ পরিবহন করার প্রক্রিয়াকে পরিবহন বলে।
জীবদেহে বিভিন্ন পদার্থ যেমন:
পানি
খনিজ লবণ
খাদ্য
অক্সিজেন
কার্বন ডাই-অক্সাইড
বর্জ্য পদার্থ
এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পরিবাহিত হয়।
২. জীবদেহে পরিবহনের প্রয়োজনীয়তা
বহুকোষী জীবের দেহে অসংখ্য কোষ থাকে। প্রতিটি কোষের কাছে সরাসরি পরিবেশ থেকে প্রয়োজনীয় পদার্থ পৌঁছানো সম্ভব নয়।
তাই পরিবহন ব্যবস্থা প্রয়োজন।
পরিবহনের প্রধান কাজ:
১. অক্সিজেন সরবরাহ
কোষীয় শ্বসনের জন্য অক্সিজেন প্রয়োজন।
পরিবহন ব্যবস্থা:
ফুসফুস থেকে অক্সিজেন কোষে পৌঁছে দেয়।
২. খাদ্য পরিবহন
পরিপাকের পর তৈরি খাদ্য:
ক্ষুদ্রান্ত্র → রক্ত → বিভিন্ন কোষে পৌঁছে যায়।
৩. বর্জ্য অপসারণ
কোষে উৎপন্ন:
কার্বন ডাই-অক্সাইড
অন্যান্য বর্জ্য
দেহ থেকে বের করার জন্য পরিবহন প্রয়োজন।
৩. উদ্ভিদের পরিবহন ব্যবস্থা
উদ্ভিদে পরিবহনের জন্য বিশেষ টিস্যু রয়েছে।
প্রধান দুই ধরনের পরিবহন টিস্যু:
১. জাইলেম (Xylem)
২. ফ্লোয়েম (Phloem)
৪. জাইলেম (Xylem)
সংজ্ঞা:
যে পরিবহন টিস্যুর মাধ্যমে উদ্ভিদের মূল থেকে পানি ও খনিজ লবণ পাতায় পৌঁছে যায় তাকে জাইলেম বলে।
জাইলেমের কাজ:
পানি পরিবহন
খনিজ লবণ পরিবহন
পানি কোথা থেকে আসে?
মূলের রোম (Root hair) মাটি থেকে:
পানি
খনিজ লবণ
শোষণ করে।
এরপর:
মূল
⬇️
কাণ্ড
⬇️
পাতা
পরিবহন হয়।
৫. ফ্লোয়েম (Phloem)
সংজ্ঞা:
পাতায় তৈরি খাদ্য উদ্ভিদের অন্যান্য অংশে পরিবহনকারী টিস্যুকে ফ্লোয়েম বলে।
কাজ:
পাতায় তৈরি:
গ্লুকোজ
অন্যান্য খাদ্য
পরিবহন করে।
খাদ্য পরিবহনের দিক:
পাতা থেকে:
⬇️
মূল
⬇️
কাণ্ড
⬇️
ফল ও বীজ
৬. উদ্ভিদে পানি পরিবহন
পানি পরিবহনে কয়েকটি প্রক্রিয়া কাজ করে:
১. মূলের শোষণ
মূলের রোম মাটি থেকে পানি গ্রহণ করে।
২. অভিস্রবণ (Osmosis)
পাতলা দ্রবণ থেকে ঘন দ্রবণের দিকে পানির চলাচলকে অভিস্রবণ বলে।
৩. বাষ্পমোচন টান (Transpiration Pull)
পাতা থেকে পানি বাষ্প আকারে বের হওয়ার ফলে জাইলেমের মাধ্যমে পানি উপরে উঠে আসে।
৭. বাষ্পমোচন (Transpiration)
সংজ্ঞা:
উদ্ভিদের পাতার রন্ধ্র (Stomata) দিয়ে অতিরিক্ত পানি বাষ্প আকারে বের হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে বাষ্পমোচন বলে।
বাষ্পমোচনের গুরুত্ব:
১. পানি পরিবহনে সাহায্য করে।
২. উদ্ভিদের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।
৩. খনিজ লবণ পরিবহনে সাহায্য করে।
৮. প্রাণীদেহে পরিবহন
প্রাণীদেহে পরিবহন প্রধানত:
রক্ত সংবহন তন্ত্রের মাধ্যমে হয়।
এর প্রধান অংশ:
১. রক্ত
২. হৃদপিণ্ড
৩. রক্তনালি
৯. রক্ত (Blood)
সংজ্ঞা:
রক্ত হলো এক ধরনের তরল সংযোজক টিস্যু যা দেহের বিভিন্ন অংশে পদার্থ পরিবহন করে।
রক্তের প্রধান উপাদান:
১. প্লাজমা (Plasma)
রক্তের তরল অংশ।
কাজ:
খাদ্য পরিবহন
হরমোন পরিবহন
বর্জ্য পরিবহন
২. লোহিত রক্তকণিকা (RBC)
কাজ:
অক্সিজেন পরিবহন
এতে থাকে:
হিমোগ্লোবিন
৩. শ্বেত রক্তকণিকা (WBC)
কাজ:
রোগ প্রতিরোধ
৪. অণুচক্রিকা (Platelet)
কাজ:
রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।
১০. হৃদপিণ্ড (Heart)
সংজ্ঞা:
হৃদপিণ্ড হলো একটি পেশিবহুল অঙ্গ যা সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে সারা দেহে রক্ত সঞ্চালন করে।
মানুষের হৃদপিণ্ড বুকের গহ্বরের মাঝামাঝি, সামান্য বাম দিকে অবস্থিত।
১১. হৃদপিণ্ডের গঠন
মানুষের হৃদপিণ্ড চারটি প্রকোষ্ঠ নিয়ে গঠিত।
এগুলো হলো:
১. ডান অলিন্দ (Right Atrium)
২. ডান নিলয় (Right Ventricle)
৩. বাম অলিন্দ (Left Atrium)
৪. বাম নিলয় (Left Ventricle)
১. অলিন্দ (Atrium)
অলিন্দ হলো হৃদপিণ্ডের উপরের দুটি প্রকোষ্ঠ।
কাজ:
রক্ত গ্রহণ করে।
২. নিলয় (Ventricle)
নিলয় হলো নিচের দুটি প্রকোষ্ঠ।
কাজ:
রক্ত পাম্প করে দেহে পাঠায়।
১২. হৃদপিণ্ডের ভালভ (Valve)
হৃদপিণ্ডে বিশেষ ধরনের দরজার মতো গঠন থাকে যাকে ভালভ বলে।
কাজ:
রক্তকে একমুখী প্রবাহে চলতে সাহায্য করে।
রক্তের উল্টো প্রবাহ বন্ধ করে।
প্রধান ভালভ:
১. ট্রাইকাসপিড ভালভ
২. বাইকাসপিড / মাইট্রাল ভালভ
৩. অর্ধচন্দ্রাকার ভালভ
১৩. মানুষের রক্ত সংবহন ব্যবস্থা
মানুষের রক্ত সংবহন ব্যবস্থা হলো বদ্ধ সংবহন ব্যবস্থা।
কারণ:
রক্ত সবসময় রক্তনালির ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়।
রক্ত সংবহনের প্রধান অংশ:
১. হৃদপিণ্ড
২. রক্ত
৩. রক্তনালি
১৪. রক্তনালি (Blood Vessel)
রক্ত চলাচলের জন্য ব্যবহৃত নলাকার পথকে রক্তনালি বলে।
প্রধান তিন ধরনের:
১. ধমনি (Artery)
২. শিরা (Vein)
৩. কৈশিক নালি (Capillary)
১৫. ধমনি (Artery)
সংজ্ঞা:
যে রক্তনালি হৃদপিণ্ড থেকে রক্ত বহন করে দেহের বিভিন্ন অংশে নিয়ে যায় তাকে ধমনি বলে।
বৈশিষ্ট্য:
দেয়াল পুরু ও স্থিতিস্থাপক।
রক্তচাপ বেশি থাকে।
সাধারণত অক্সিজেনযুক্ত রক্ত বহন করে।
ব্যতিক্রম:
ফুসফুসীয় ধমনি অক্সিজেনবিহীন রক্ত বহন করে।
১৬. শিরা (Vein)
সংজ্ঞা:
যে রক্তনালি দেহের বিভিন্ন অংশ থেকে রক্ত হৃদপিণ্ডে ফিরিয়ে আনে তাকে শিরা বলে।
বৈশিষ্ট্য:
দেয়াল পাতলা।
রক্তচাপ কম।
ভালভ থাকে।
সাধারণত:
অক্সিজেনবিহীন রক্ত বহন করে।
ব্যতিক্রম:
ফুসফুসীয় শিরা অক্সিজেনযুক্ত রক্ত বহন করে।
১৭. কৈশিক নালি (Capillary)
সংজ্ঞা:
অতি ক্ষুদ্র রক্তনালিকে কৈশিক নালি বলে।
কাজ:
রক্ত ও কোষের মধ্যে পদার্থ বিনিময় করে।
যেমন:
রক্ত থেকে:
অক্সিজেন
খাদ্য
কোষে যায়।
কোষ থেকে:
কার্বন ডাই-অক্সাইড
বর্জ্য
রক্তে আসে।
১৮. রক্ত সংবহনের ধাপ
ধাপ–১: ফুসফুসীয় সংবহন (Pulmonary Circulation)
ডান নিলয়
⬇️
ফুসফুসীয় ধমনি
⬇️
ফুসফুস
⬇️
ফুসফুসীয় শিরা
⬇️
বাম অলিন্দ
ধাপ–২: দেহীয় সংবহন (Systemic Circulation)
বাম নিলয়
⬇️
মহাধমনি (Aorta)
⬇️
সারা দেহ
⬇️
শিরা
⬇️
ডান অলিন্দ
১৯. দ্বৈত রক্ত সংবহন (Double Circulation)
মানুষের রক্ত একবার সম্পূর্ণ চক্রে হৃদপিণ্ডের মধ্য দিয়ে দুইবার যায়।
এ কারণে একে দ্বৈত রক্ত সংবহন বলে।
দুটি অংশ:
১. ফুসফুসীয় সংবহন
২. দেহীয় সংবহন
২০. হৃদপিণ্ডের স্পন্দন (Heartbeat)
হৃদপিণ্ডের নিয়মিত সংকোচন ও প্রসারণকে হৃদস্পন্দন বলে।
প্রধান দুটি ধাপ:
১. সিস্টোল (Systole)
হৃদপিণ্ড সংকুচিত হয়।
ফলে:
রক্ত বাইরে বের হয়।
২. ডায়াস্টোল (Diastole)
হৃদপিণ্ড প্রসারিত হয়।
ফলে:
রক্ত হৃদপিণ্ডে প্রবেশ করে।
২১. রক্তচাপ (Blood Pressure)
রক্তনালির দেয়ালে প্রবাহিত রক্তের চাপকে রক্তচাপ বলে।
দুটি মান:
সিস্টোলিক চাপ
হৃদপিণ্ড সংকোচনের সময়ের চাপ।
ডায়াস্টোলিক চাপ
হৃদপিণ্ড প্রসারণের সময়ের চাপ।
সাধারণ রক্তচাপ:
প্রায় 120/80 mmHg
২২. লসিকা (Lymph)
সংজ্ঞা:
টিস্যু তরল থেকে তৈরি বর্ণহীন তরলকে লসিকা বলে।
লসিকার কাজ:
১. অতিরিক্ত টিস্যু তরল রক্তে ফিরিয়ে দেয়।
২. চর্বি শোষণে সাহায্য করে।
৩. রোগ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে।
২৩. উদ্ভিদ ও প্রাণীর পরিবহনের তুলনা
| বিষয় | উদ্ভিদ | প্রাণী |
|---|---|---|
| পরিবহন মাধ্যম | জাইলেম ও ফ্লোয়েম | রক্ত ও রক্তনালি |
| পানি পরিবহন | জাইলেম | রক্ত |
| খাদ্য পরিবহন | ফ্লোয়েম | রক্ত |
| পাম্প | নেই | হৃদপিণ্ড |
গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
১. হৃদপিণ্ডকে পাম্প বলা হয় কেন?
উত্তর:
কারণ হৃদপিণ্ড সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে সারা দেহে রক্ত পাঠায়।
২. ধমনি ও শিরার পার্থক্য লেখ।
উত্তর:
ধমনি:
হৃদপিণ্ড থেকে রক্ত বহন করে।
দেয়াল পুরু।
শিরা:
হৃদপিণ্ডে রক্ত ফিরিয়ে আনে।
দেয়াল পাতলা।
৩. কৈশিক নালির কাজ কী?
উত্তর:
রক্ত ও দেহকোষের মধ্যে অক্সিজেন, খাদ্য ও বর্জ্য পদার্থের বিনিময় ঘটানো।
২৪. উদ্ভিদের পরিবহন ব্যবস্থা (Transport in Plants)
উদ্ভিদে প্রাণীর মতো হৃদপিণ্ড বা রক্ত নেই। তাই উদ্ভিদে বিশেষ পরিবহন টিস্যুর মাধ্যমে পানি, খনিজ লবণ ও খাদ্য পরিবাহিত হয়। উদ্ভিদের প্রধান পরিবহন টিস্যু হলো জাইলেম ও ফ্লোয়েম।
২৫. জাইলেমের মাধ্যমে পানি পরিবহন
পানি শোষণ
উদ্ভিদের মূল মাটি থেকে:
পানি
খনিজ লবণ
শোষণ করে।
মূলের যে অংশ পানি শোষণে বিশেষ ভূমিকা রাখে তাকে মূলরোম (Root hair) বলে।
পানি পরিবহনের পথ:
মাটি
⬇️
মূলরোম
⬇️
মূল
⬇️
কাণ্ড
⬇️
পাতা
২৬. পানি উপরে ওঠার কারণ
উদ্ভিদে পানি নিচ থেকে উপরে ওঠে কয়েকটি কারণে:
১. মূলচাপ (Root Pressure)
মূলের কোষে পানি প্রবেশ করার ফলে যে চাপ সৃষ্টি হয় তাকে মূলচাপ বলে।
এটি পানি উপরের দিকে উঠতে সাহায্য করে।
২. বাষ্পমোচন টান (Transpiration Pull)
পাতা থেকে পানি বাষ্প আকারে বের হয়ে গেলে পাতায় এক ধরনের টান সৃষ্টি হয়।
এই টানের কারণে:
জাইলেমের পানি উপরের দিকে উঠে যায়।
৩. সংযোজন ও আসঞ্জন শক্তি
সংযোজন (Cohesion)
পানির অণুগুলোর মধ্যে আকর্ষণ।
আসঞ্জন (Adhesion)
পানি ও জাইলেম দেয়ালের মধ্যে আকর্ষণ।
এই দুই শক্তি পানির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
২৭. বাষ্পমোচন (Transpiration)
সংজ্ঞা:
উদ্ভিদের বায়বীয় অংশ, বিশেষ করে পাতার রন্ধ্র দিয়ে পানি বাষ্প আকারে বের হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে বাষ্পমোচন বলে।
বাষ্পমোচনের স্থান
প্রধানত:
পাতার রন্ধ্র (Stomata)
দিয়ে ঘটে।
বাষ্পমোচনের গুরুত্ব
১. পানি পরিবহন
জাইলেমের মাধ্যমে পানি উপরে উঠতে সাহায্য করে।
২. তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ
উদ্ভিদকে অতিরিক্ত গরম হওয়া থেকে রক্ষা করে।
৩. খনিজ লবণ পরিবহন
মূল থেকে পাতায় খনিজ পৌঁছাতে সাহায্য করে।
২৮. ফ্লোয়েমের মাধ্যমে খাদ্য পরিবহন
পাতায় সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে তৈরি খাদ্য:
গ্লুকোজ
সুক্রোজ
ফ্লোয়েমের মাধ্যমে উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশে যায়।
এই খাদ্য পরিবহনকে স্থানান্তরণ (Translocation) বলে।
খাদ্য পরিবহনের দিক
পাতা (Source)
⬇️
মূল
⬇️
ফল
⬇️
বীজ
⬇️
বৃদ্ধিশীল অংশ
২৯. জাইলেম ও ফ্লোয়েমের পার্থক্য
| বিষয় | জাইলেম | ফ্লোয়েম |
|---|---|---|
| পরিবহন করে | পানি ও খনিজ | খাদ্য |
| উৎস | মূল | পাতা |
| গন্তব্য | পাতা | সারা উদ্ভিদ |
| প্রবাহ | সাধারণত একমুখী | উভয়মুখী হতে পারে |
| টিস্যু | পানি পরিবহনকারী | খাদ্য পরিবহনকারী |
৩০. রক্তের রোগ (Blood Disorders)
১. রক্তশূন্যতা (Anaemia)
কারণ:
রক্তে হিমোগ্লোবিন বা লোহিত রক্তকণিকার সংখ্যা কমে গেলে রক্তশূন্যতা হয়।
লক্ষণ:
দুর্বলতা
দ্রুত ক্লান্ত হওয়া
মাথা ঘোরা
ফ্যাকাশে ত্বক
প্রতিকার:
আয়রনযুক্ত খাবার গ্রহণ
সুষম খাদ্য
উদাহরণ:
কলিজা
পালং শাক
ডাল
২. লিউকেমিয়া (Leukaemia)
সংজ্ঞা:
শ্বেত রক্তকণিকার অস্বাভাবিক বৃদ্ধিকে লিউকেমিয়া বলে।
প্রভাব:
স্বাভাবিক রক্তকণিকা উৎপাদন ব্যাহত হয়।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।
৩. হিমোফিলিয়া (Haemophilia)
সংজ্ঞা:
যে বংশগত রোগে রক্ত জমাট বাঁধার ক্ষমতা কমে যায় তাকে হিমোফিলিয়া বলে।
লক্ষণ:
আঘাতের পর দীর্ঘসময় রক্তপাত
সহজে রক্ত বন্ধ না হওয়া
৪. উচ্চ রক্তচাপ (Hypertension)
সংজ্ঞা:
স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি রক্তচাপকে উচ্চ রক্তচাপ বলে।
কারণ:
অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ
স্থূলতা
মানসিক চাপ
ব্যায়ামের অভাব
৩১. অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
১. জাইলেমের কাজ কী?
উত্তর:
জাইলেম মূল থেকে পানি ও খনিজ লবণ পাতায় পরিবহন করে।
২. ফ্লোয়েমের কাজ কী?
উত্তর:
ফ্লোয়েম পাতায় তৈরি খাদ্য উদ্ভিদের অন্যান্য অংশে পরিবহন করে।
৩. বাষ্পমোচন কী?
উত্তর:
পাতার রন্ধ্র দিয়ে পানি বাষ্প আকারে বের হওয়ার প্রক্রিয়াকে বাষ্পমোচন বলে।
৪. RBC-এর কাজ কী?
উত্তর:
RBC হিমোগ্লোবিনের মাধ্যমে অক্সিজেন পরিবহন করে।
৫. WBC-এর কাজ কী?
উত্তর:
WBC জীবাণুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
৩২. MCQ প্রস্তুতি
১. উদ্ভিদে পানি পরিবহন করে কোন টিস্যু?
ক) ফ্লোয়েম
খ) জাইলেম ✅
গ) প্যারেনকাইমা
ঘ) কোলেনকাইমা
২. খাদ্য পরিবহন করে কোন টিস্যু?
ক) জাইলেম
খ) ফ্লোয়েম ✅
গ) স্ক্লেরেনকাইমা
ঘ) এপিডার্মিস
৩. রক্তের লাল রং কোন পদার্থের জন্য?
ক) প্লাজমা
খ) হিমোগ্লোবিন ✅
গ) প্লেটলেট
ঘ) লসিকা
৪. রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে—
ক) RBC
খ) WBC
গ) Platelet ✅
ঘ) Plasma
৩৩. অধ্যায় ৬ এক নজরে
উদ্ভিদ পরিবহন
মূল
↓
জাইলেম
↓
পানি ও খনিজ
↓
পাতা
পাতা
↓
ফ্লোয়েম
↓
খাদ্য
↓
সারা উদ্ভিদ
প্রাণী পরিবহন
হৃদপিণ্ড
↓
রক্তনালি
↓
রক্ত
↓
অক্সিজেন + খাদ্য + বর্জ্য পরিবহন
Comments
Post a Comment
Thanks