অধ্যায় ২: জীবকোষ ও টিস্যু (class 10)
অধ্যায় ২: জীবকোষ ও টিস্যু
(Cell and Tissue)
১. জীবকোষ (Cell)
জীবকোষের সংজ্ঞা
জীবদেহের গঠন ও কাজের ক্ষুদ্রতম একককে জীবকোষ (Cell) বলে।
কোষ হলো জীবনের মৌলিক একক।
একটি জীব এক বা একাধিক কোষ দিয়ে গঠিত হতে পারে।
উদাহরণ:
ব্যাকটেরিয়া → এককোষী জীব
মানুষ → বহুকোষী জীব
২. কোষ তত্ত্ব (Cell Theory)
কোষ সম্পর্কে আধুনিক ধারণাকে কোষ তত্ত্ব বলা হয়।
কোষ তত্ত্বের মূল বক্তব্য
১. সকল জীব কোষ দিয়ে গঠিত।
২. কোষ জীবদেহের গঠন ও কাজের মৌলিক একক।
৩. নতুন কোষ পূর্ববর্তী কোষ থেকে সৃষ্টি হয়।
৩. কোষের প্রকারভেদ
কোষ প্রধানত দুই ধরনের:
১) আদিকোষ (Prokaryotic Cell)
যেসব কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস নেই তাকে আদিকোষ বলে।
বৈশিষ্ট্য:
নিউক্লিয়ার মেমব্রেন থাকে না।
DNA নিউক্লিওয়েড অঞ্চলে থাকে।
ঝিল্লিবেষ্টিত অঙ্গাণু থাকে না।
উদাহরণ:
ব্যাকটেরিয়া
২) প্রকৃতকোষ (Eukaryotic Cell)
যেসব কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে তাকে প্রকৃতকোষ বলে।
বৈশিষ্ট্য:
নিউক্লিয়ার মেমব্রেন থাকে।
DNA নিউক্লিয়াসের ভিতরে থাকে।
বিভিন্ন কোষীয় অঙ্গাণু উপস্থিত থাকে।
উদাহরণ:
উদ্ভিদ কোষ
প্রাণী কোষ
৪. উদ্ভিদ ও প্রাণী কোষের প্রধান অঙ্গাণু
(ক) কোষপ্রাচীর (Cell Wall)
সংজ্ঞা:
উদ্ভিদ কোষের বাইরের শক্ত আবরণকে কোষপ্রাচীর বলে।
কাজ:
কোষকে নির্দিষ্ট আকৃতি প্রদান করে।
যান্ত্রিক শক্তি প্রদান করে।
কোষকে রক্ষা করে।
(খ) কোষঝিল্লি / প্লাজমালেমা (Plasma Membrane)
সংজ্ঞা:
কোষের ভেতরের পদার্থকে ঘিরে থাকা পাতলা আবরণকে কোষঝিল্লি বলে।
কাজ:
কোষে পদার্থ প্রবেশ ও বের হওয়ার নিয়ন্ত্রণ করে।
কোষকে বাইরের পরিবেশ থেকে পৃথক রাখে।
(গ) সাইটোপ্লাজম (Cytoplasm)
নিউক্লিয়াস ছাড়া কোষের অভ্যন্তরের জেলির মতো অংশকে সাইটোপ্লাজম বলে।
কাজ:
কোষীয় অঙ্গাণু ধারণ করে।
বিভিন্ন বিপাকীয় কাজ সম্পন্ন হয়।
(ঘ) মাইটোকন্ড্রিয়া (Mitochondria)
একে কোষের শক্তিঘর (Power house) বলা হয়।
কাজ:
খাদ্য থেকে শক্তি উৎপন্ন করে।
ATP তৈরি করে।
বৈশিষ্ট্য:
দ্বিস্তর ঝিল্লিবেষ্টিত।
ভেতরের ঝিল্লিতে ক্রিস্টি থাকে।
(ঙ) প্লাস্টিড (Plastid)
শুধু উদ্ভিদ কোষে পাওয়া যায়।
প্রধানত তিন ধরনের:
১. ক্লোরোপ্লাস্ট (Chloroplast)
কাজ:
সালোকসংশ্লেষণ সম্পন্ন করে।
খাদ্য তৈরি করে।
এতে ক্লোরোফিল থাকে।
২. ক্রোমোপ্লাস্ট (Chromoplast)
কাজ:
ফুল ও ফলের রং সৃষ্টি করে।
৩. লিউকোপ্লাস্ট (Leucoplast)
কাজ:
খাদ্য সঞ্চয় করে।
(চ) গলজি বডি (Golgi Body)
কাজ:
কোষে তৈরি পদার্থ পরিবহন ও নিঃসরণে সাহায্য করে।
বিভিন্ন পদার্থ প্যাকেটজাত করে।
(ছ) এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম (Endoplasmic Reticulum)
দুই ধরনের:
১. রাফ ER
রাইবোসোম যুক্ত থাকে।
প্রোটিন তৈরিতে সাহায্য করে।
২. স্মুথ ER
লিপিড তৈরিতে সাহায্য করে।
(জ) রাইবোসোম (Ribosome)
কাজ:
প্রোটিন সংশ্লেষণ করে।
(ঝ) লাইসোসোম (Lysosome)
একে কোষের আত্মঘাতী থলি (Suicidal bag) বলা হয়।
কাজ:
বর্জ্য পদার্থ ভেঙে ফেলে।
পুরোনো অঙ্গাণু ধ্বংস করে।
(ঞ) নিউক্লিয়াস (Nucleus)
নিউক্লিয়াস হলো কোষের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র।
কাজ:
কোষের সব কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে।
বংশগত বৈশিষ্ট্য বহন করে।
নিউক্লিয়াসের অংশ:
নিউক্লিয়ার মেমব্রেন
নিউক্লিওপ্লাজম
নিউক্লিওলাস
ক্রোমাটিন জালিকা
৫. টিস্যু (Tissue)
সংজ্ঞা:
একই ধরনের গঠন ও কাজবিশিষ্ট একাধিক কোষ একত্রে টিস্যু গঠন করে।
উদ্ভিদ টিস্যু (Plant Tissue)
উদ্ভিদ টিস্যু প্রধানত দুই ধরনের:
১. সরল টিস্যু (Simple Tissue)
এক ধরনের কোষ দিয়ে গঠিত।
প্রধান তিনটি:
ক) প্যারেনকাইমা (Parenchyma)
বৈশিষ্ট্য:
জীবিত কোষ।
পাতলা কোষপ্রাচীর থাকে।
কাজ:
খাদ্য সঞ্চয় করে।
সালোকসংশ্লেষণে সাহায্য করে।
খ) কোলেনকাইমা (Collenchyma)
কাজ:
উদ্ভিদকে নমনীয়তা ও দৃঢ়তা দেয়।
গ) স্ক্লেরেনকাইমা (Sclerenchyma)
বৈশিষ্ট্য:
মৃত কোষ।
শক্তি প্রদান করে।
২. জটিল টিস্যু (Complex Tissue)
একাধিক ধরনের কোষ নিয়ে গঠিত।
প্রধান দুই ধরনের:
ক) জাইলেম (Xylem)
কাজ:
পানি ও খনিজ লবণ পরিবহন করে।
অংশ:
ট্রাকিড
ভেসেল
জাইলেম প্যারেনকাইমা
জাইলেম ফাইবার
খ) ফ্লোয়েম (Phloem)
কাজ:
পাতায় তৈরি খাদ্য পরিবহন করে।
অংশ:
সিভ টিউব
সঙ্গী কোষ
ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা
ফ্লোয়েম ফাইবার
প্রাণী টিস্যু (Animal Tissue)
প্রাণী টিস্যু চার ধরনের:
১. আবরণী টিস্যু (Epithelial Tissue)
কাজ:
শরীরের বাইরের আবরণ তৈরি করে।
সুরক্ষা দেয়।
ধরন:
স্কোয়ামাস এপিথেলিয়াম
কিউবয়েডাল এপিথেলিয়াম
কলামনার এপিথেলিয়াম
২. সংযোজক টিস্যু (Connective Tissue)
কাজ:
বিভিন্ন অঙ্গকে সংযুক্ত করে।
উদাহরণ:
অস্থি
তরুণাস্থি
রক্ত
চর্বি
৩. পেশি টিস্যু (Muscular Tissue)
কাজ:
শরীরের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে।
প্রকার:
ঐচ্ছিক পেশি
অনৈচ্ছিক পেশি
হৃদপেশি
৪. স্নায়ু টিস্যু (Nervous Tissue)
কাজ:
উদ্দীপনা গ্রহণ ও পরিবহন করে।
গঠন:
নিউরন
৬. অঙ্গ ও তন্ত্র (Organ and Organ System)
একাধিক টিস্যু একত্রে অঙ্গ তৈরি করে।
উদাহরণ:
পাকস্থলী
হৃদপিণ্ড
ফুসফুস
একাধিক অঙ্গ একত্রে একটি তন্ত্র তৈরি করে।
উদাহরণ:
পরিপাক তন্ত্র
শ্বাসতন্ত্র
রক্তসংবহন তন্ত্র
৭. অণুবীক্ষণ যন্ত্র (Microscope)
ক্ষুদ্র বস্তু দেখার জন্য ব্যবহৃত যন্ত্রকে অণুবীক্ষণ যন্ত্র বলে।
প্রধান ধরন:
১. সরল অণুবীক্ষণ যন্ত্র
একটি লেন্স থাকে।
২. যৌগিক অণুবীক্ষণ যন্ত্র
একাধিক লেন্স থাকে।
কোষ পর্যবেক্ষণে ব্যবহৃত হয়।
৩. ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্র
অত্যন্ত ক্ষুদ্র গঠন দেখার জন্য ব্যবহৃত হয়।
পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন:
কোষ কাকে বলে?
আদিকোষ ও প্রকৃতকোষের পার্থক্য লেখ।
মাইটোকন্ড্রিয়াকে শক্তিঘর বলা হয় কেন?
টিস্যু কী?
জাইলেম ও ফ্লোয়েমের কাজ কী?
সৃজনশীল প্রশ্নের প্রস্তুতি:
উদ্ভিদ কোষ ও প্রাণী কোষের তুলনা।
কোষ অঙ্গাণুর গঠন ও কাজ।
উদ্ভিদ টিস্যুর শ্রেণিবিন্যাস।
প্রাণী টিস্যুর প্রকারভেদ ও কাজ।
Comments
Post a Comment
Thanks