প্রাণীজগতের শ্রেণিবিন্যাস
প্রাণীজগতের শ্রেণিবিন্যাস
অষ্টম শ্রেণি • বিজ্ঞান • প্রথম অধ্যায়
১. শ্রেণীবিন্যাস কী ও কেন?
শ্রেণীবিন্যাস হল প্রাণীদের সুবিধাজনকভাবে দলভুক্ত করার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি।
প্রয়োজনীয়তা:- অজস্র প্রাণীকে সহজে চেনা ও শনাক্ত করা।
- প্রাণীদের মধ্যে সম্পর্ক নির্ণয়।
- নতুন প্রজাতি শনাক্তকরণ।
- জ্ঞান সংরক্ষণ ও প্রয়োগ।
২. শ্রেণীবিন্যাসের স্তরক্রম
জগৎ ➔ পর্ব ➔ শ্রেণী ➔ বর্গ ➔ গোত্র ➔ গণ ➔ প্রজাতি
৩. (ক) অমেরুদণ্ডী প্রাণী (Invertebrates)
শরীরে মেরুদণ্ড বা কশেরুকা থাকে না।
১. পর্ব: পোরিফেরা (Porifera)
সাধারণ নাম: স্পঞ্জ
- সরলতম বহুকোষী প্রাণী।
- দেহে অসংখ্য ছিদ্র (Ostia) থাকে।
- টিস্যু বা অঙ্গ তন্ত্র অনুপস্থিত।
- উদাহরণ: Sycon, Spongilla
২. পর্ব: সিনিডেরিয়া (Cnidaria)
- দেহ দ্বিস্তর বিশিষ্ট (এক্টোডার্ম ও এন্ডোডার্ম)।
- দেহগহ্বরকে সিলেন্টেরন বলে।
- শিকারের জন্য নেমাটোসিস্ট কোষ থাকে।
- উদাহরণ: Hydra, জেলিফিশ
৩. পর্ব: প্লাটিহেলমিনথিস (চ্যাপ্টা কৃমি)
- দেহ চ্যাপ্টা, পৃষ্ঠীয়-উদরীয়ভাবে চাপা।
- অধিকাংশই পরজীবী।
- উদাহরণ: যকৃত কৃমি, ফিতা কৃমি
৪. পর্ব: নেমাটোডা (গোলকৃমি)
- দেহ চোঙাকার, দুই প্রান্ত সরু।
- লিঙ্গভেদ আছে (পুরুষ ও স্ত্রী পৃথক)।
- উদাহরণ: অ্যাসকারিস (গোলকৃমি)
৫. পর্ব: অ্যানেলিডা (Annelida)
- দেহ রিং-এর মতো খণ্ডায়িত।
- প্রকৃত দেহগহ্বর (সিলোম) আছে।
- উদাহরণ: কেঁচো, জোঁক
৬. পর্ব: আর্থ্রোপোডা (Arthropoda)
সবচেয়ে বড় পর্ব
- দেহ খণ্ডায়িত, যুগ্মপাদ ও যুগ্ম চোখ আছে।
- কাইটিন নির্মিত শক্ত বহিঃকঙ্কাল।
- উপশ্রেণী: ক্রাস্টেসিয়া (চিংড়ি), ইনসেক্টা (পিঁপিড়া), অ্যারাকনিডা (মাকড়সা)।
৭. পর্ব: মলাস্কা (Mollusca)
- নরম দেহ, সাধারণত খোলক ও ম্যান্টল পর্দা দ্বারা আবৃত।
- পেশিল পদ দিয়ে চলাচল করে।
- উদাহরণ: শামুক, ঝিনুক, অক্টোপাস
৮. পর্ব: ইকিনোডার্মাটা (Echinodermata)
- দেহ তীক্ষ্ণ কাঁটাযুক্ত এবং রেডিয়াল প্রতিসম।
- নলপাদ (Tube feet) দিয়ে চলাচল করে।
- উদাহরণ: তারামাছ, সামুদ্রিক শসা
৩. (খ) মেরুদণ্ডী প্রাণী (Vertebrates)
পর্ব: কর্ডাটা (Chordata)
উপপর্ব ১: সিবেরাসফালোকর্ডাটা: নটোকর্ড আছে, মেরুদণ্ড নেই। উদা: অ্যাম্ফিওক্সাস।
উপপর্ব ২: ভার্টিব্রাটা: এদের ৫টি প্রধান শ্রেণী আছে:
- পিসিস (মাছ): ফুলকার সাহায্যে শ্বাসকার্য, ২ প্রকোষ্ঠী হৃৎপিণ্ড।
- অ্যাম্ফিবিয়া (উভচর): ত্বক আর্দ্র, ৩ প্রকোষ্ঠী হৃৎপিণ্ড। উদা: ব্যাঙ।
- রেপটিলিয়া (সরীসৃপ): বুকে ভর দিয়ে চলে, শুষ্ক আঁশযুক্ত ত্বক। উদা: সাপ।
- এভিস (পাখি): দেহ পালকযুক্ত, হাড় ফাঁপা ও হালকা। ৪ প্রকোষ্ঠী হৃৎপিণ্ড।
- ম্যামালিয়া (স্তন্যপায়ী): শাবক প্রসব ও দুগ্ধপান করায়, উষ্ণরক্তের প্রাণী। উদা: মানুষ।
৪. দ্বিপদ নামকরণ ও সুবিধা
প্রবর্তক: কার্ল লিনিয়াস
ফরম্যাট: গণ + প্রজাতি
মানুষের নাম: Homo sapiens
সুবিধা: প্রজাতি শনাক্তকরণ সহজ হয় এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সাহায্য করে।
৬. একনজরে সারাংশ টেবিল
| পর্ব | দেহগহ্বর | প্রতিসমতা | উদাহরণ |
|---|---|---|---|
| পোরিফেরা | নেই | অনুপ্রতিসম | স্পঞ্জ |
| সিনিডেরিয়া | অসম্পূর্ণ | রেডিয়াল | হাইড্রা |
| প্লাটিহেলমিনথিস | নেই | দ্বিপার্শ্বীয় | ফিতা কৃমি |
| নেমাটোডা | সিউডোসিলোম | দ্বিপার্শ্বীয় | গোলকৃমি |
| অ্যানেলিডা | সিলোম | দ্বিপার্শ্বীয় | কেঁচো |
| আর্থ্রোপোডা | সিলোম | দ্বিপার্শ্বীয় | প্রজাপতি |
| মলাস্কা | সিলোম | দ্বিপার্শ্বীয় | শামুক |
| ইকিনোডার্মাটা | সিলোম | রেডিয়াল | তারামাছ |
৭. শব্দকোষ (Dictionary)
সিলোম: প্রকৃত দেহগহ্বর।
পরজীবী: যারা অন্য জীবের দেহে বাস করে পুষ্টি নেয়।
রেডিয়াল প্রতিসম: কেন্দ্র থেকে চারদিকে সমানভাবে ভাগ করা যায়।
Comments
Post a Comment
Thanks